ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ জোট গড়ে তুলতে ২৬ বিরোধী দলের নেতারা বৈঠক করেছেন। জোট গঠনে এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসন নির্ধারণ নিয়ে কতোটা ঐক্যমত থাকবে বিরোধীদের তা নিয়ে সংশয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ইউনাইটেড উই স্ট্যান্ড- এই ব্যানারে বেঙ্গালুরুতে একজোট হয়েছে কংগ্রেসসহ ২৬ বিরোধী দল। বৈঠকে রাজ্যে রাজ্যে আসন বন্টনের ‘রোডম্যাপ’ তৈরির পাশাপাশি জোটের নাম, কাঠামো এবং ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচির খসড়া নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
গত মাসে বিহারের রাজধানী পাটনায় বসে বিরোধীদের জোট গঠনের প্রথম বৈঠক। অংশ নিয়ে ছিলো ১৬টি রাজনৈতিক দল। এবারের বৈঠকের জন্য কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ছোট-বড় মিলিয়ে মোটামুটিভাবে দুই ডজনের মতো দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এই দলগুলোকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক. বিভিন্ন রাজ্যে যেসব দলের সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা আছে, আর দুই. কোনো রাজ্যেই যাদের সঙ্গে কংগ্রেসের আঁতাত নেই– বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে।
প্রথম ক্যাটেগরিতে পড়ছে ১৬টির মতো দল, আর দ্বিতীয় ক্যাটেগরিতে পড়ছে আরও সাতটি দল – যার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, ন্যাশনাল কনফারেন্স ও পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি উল্লেখযোগ্য।
বৈঠকে ঠিক কি হতে যাচ্ছে তার দিকে দিকে তাকিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোটের যেমন সম্ভাবনা আছে তামনি আছে চ্যালেঞ্জ। তাদের মতে, প্রথম চ্যালেঞ্জ হলো কী শর্তে তাদের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যে আসন সমঝোতা হবে সেটা স্থির করা।
রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, কর্নাটকের মতো যে সব রাজ্যে বিজেপির প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরাসরি কংগ্রেসের সঙ্গে, সেখানে বিজেপির বিরুদ্ধে একজন যৌথ বিরোধী প্রার্থীকে দাঁড় করানোটা তেমন কোনো সমস্যা নয়।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে, যেখানে ক্ষমতাসীন তৃণমূল বিরোধী কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়ছে কিংবা কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত বিধায়ককে জেতার পর নিজেদের দলে নিয়ে আসছে – সেখানে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হওয়া অবশ্যই কঠিন। অথবা ধরা যাক দিল্লি কিংবা পাঞ্জাবের মতো রাজ্য, সেখানেও কংগ্রেসের সঙ্গে আম আদমি পার্টির সম্পর্ক একেবারে আদায়-কাঁচকলায়।
আরও পড়ুন: শত বছরের উষ্ণতম মাস হতে পারে জুলাই!
এই দুটি রাজ্য মিলে মোট ২২টির মতো লোকসভা আসন আছে, সেখানে বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে প্রতিটি আসনে একজন প্রার্থী দিতে পারে কি না, সেটাও দেখার বিষয় হবে।
তবে আসন সমঝোতারও অনেক আগে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি ‘কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম’ চূড়ান্ত করাই প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বহু পর্যবেক্ষক।
একাত্তর/এসি
