প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে পাবনা সুগার মিলের আখ মাড়াই কার্যক্রম। এতে নষ্ট হচ্ছে মিলের মূল্যবান যন্ত্রপাতিসহ কয়েক কোটি টাকার সম্পদ।
সেইসাথে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার কয়েক হাজার আখ চাষিসহ মিলের সাথে জড়িতরা। মিলটি সংস্কার করে আবারো চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলিতে স্থাপন করা হয় পাবনা সুগার মিলস লিমিটেড। ১৯৯৭-৯৮ মওসুম থেকে চিনি উৎপাদন শুরু করে এই মিল। তবে একসময় প্রাণচাঞ্চল্যে ভরা মিলটি এখন নীরব।
২০২০ সালের ২ ডিসেম্বর দেশের বেশ কয়েকটি চিনি কলের সাথে পাবনা সুগার মিলেও আখ মাড়াই কার্যক্রমও স্থগিত ঘোষণা করে শিল্প মন্ত্রণালয়। এরপর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে মিলের যন্ত্রপাতিসহ শতাধিক যানবাহন।
মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের পর বিপাকে পড়েছেন মিলে আখ সরবরাহের তালিকাভুক্ত সাড়ে তিন হাজার আখ চাষি। এলাকায় কমে গেছে আখের চাষ, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেক মানুষ।
পাবনার অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে মিলটি আবারো চালুর দাবি জানিয়েছেন এর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সমাজ সেবক গালিবুর রহমান শরীফ বলেন, সুগার মিলের সমস্যার সুন্দর সমাধান হলে তা ওই এলাকার মানুষের জন্য ভালো হবে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
পাবনা সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের আগের বছর পাবনা সুগার মিলে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করা হয়, যা বিগত কয়েক বছরে সর্বোচ্চ। সরকার উদ্যোগ নিলে মিলটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
১৯৯৭ সালে পরীক্ষামূলক চালুর পর থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৭৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান দিয়েছে পাবনা সুগার মিল। বর্তমানে কোনও আয় না থাকলেও ৫৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাবদ প্রতিমাসে গুনতে হচ্ছে ১১ লাখ টাকা।
একাত্তর/এসজে
