নওগাঁর সাপাহার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা এবং দাওয়াতি বিভাগের সক্রিয় সদস্য আরিফ হোসেনকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তার বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা রয়েছে।
বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে র্যাব-৫ জয়পুরহাট ও র্যাব-২ এর যৌথ আভিযানিক দল সাপাহার উপজেলার মধইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আরিফ নওগাঁ জেলার সাপাহার উপজেলার মধইল গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে এবং শীর্ষ জঙ্গি নেতা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্ৰেপ্তারকৃত আরিফ হোসেনসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির অন্যান্য সহযোগী সদস্যরা গত ২০১৭ সালের ২২ জুলাই ঢাকার মোহাম্মাদপুর থানা এলাকায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনার জন্য গোপন বৈঠকে মিলিত হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে আরিফ পালিয়ে গেলেও জেএমবি সদস্য সোহাইব শেখ ও রফিকুল ইসলাম রফিক গ্রেপ্তার হয়।
এসময় তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ভর্তি ম্যাগাজিন ও একটি ধারালো চাপাতি এবং নানা রকম উগ্রবাদী বই উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় মোহাম্মাদপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সেখান থেকে বেশ কয়েকজন জেএমবির সদস্য পালিয়ে গিয়েছিলো। আর পলাতকদের মধ্যে নেতা আরিফ হোসেনও ছিলেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা আরিফকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠান। মামলায় জামিনের পর থেকে আরিফ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে বারবার অবস্থান পরিবর্তন করে আসছিলেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল আসামি আরিফের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করে।
আরও পড়ুন: কিমের সঙ্গে শোইগুর বৈঠক, দেখালেন ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, জামিন পেয়ে পলাতক হওয়ার পর থেকে র্যাব এর একটি আভিযানিক দল তাকে গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৫ জয়পুরহাট ক্যাম্প ও র্যাব-২ এর বিশেষ আভিযানিক দল তার অবস্থান শনাক্ত করে। এরপর টানা দুই দিনের রুদ্ধশ্বাস অভিযান পরিচালনা শেষে বুধবার দুপুরে সাপাহার উপজেলার মধইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া তার সহযোগী জেএমবির অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানানো হয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) হাবিবুর রহমান বলেন, আসামি আরিফ হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
