জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় দণ্ড পাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বুধবার রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করতেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানের অপরাধের বিচার করা হয়েছে।
এদিনই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অপরাধে তারেক রহমানকে ৯ বছর ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে ওই সম্পদগুলো বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
পলাতক তারেক ও জুবাইদাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের চেষ্টা থাকবে কিনা, এ প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, যে রায় হয়েছে তা রায় কার্যকর করার চেষ্টা সরকারের সব সময় থাকবে। সেটা আমাদের দায়িত্ব। সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অবশ্যই করবে।’
দুদকের মামলায় বুধবার দণ্ড পাওয়ার আগে ২১ অগাস্ট শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড হামলাসহ চার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। স্ত্রী জুবাইদাকে নিয়ে গত প্রায় ১৫ বছর বসবাস করছেন যুক্তরাজ্যে।
আইনমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে দুর্নীতি করলে তার সাজা হওয়া উচিত। এটাকে রাজনৈতিক বলার সুযোগ নেই। এটা বিএনপির নিয়োজিত সেনাপ্রধানের সমর্থিত সরকারের সময়ে করা মামলা।
আনিসুল হক বলেন, ২১শে অগাষ্টের মামলায় সাজা, আগেও দুর্নীতিতে সাজা হয়েছে। তাই নতুন করে উদ্দেশ্যমূলক সাজা দিয়ে তাকে ছোটো করার কোনো বিষয় নেই।
ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৬১ টাকার মালিক হওয়া এবং সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কাফরুল থানায় তারেক ও জুবাইদার বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুদক।
এর আগে একুশে অগাস্টে শেখ হাসিনার জনসভায় গ্রেনেড মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর, অর্থ পাচারের দায়ে সাত বছর এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার অপরাধে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।
একাত্তর/আরবি
