২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা

ছেলের হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে যেতে চান মাহবুবের বাবা

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩, ১১:৩৮ এএম

ঘড়ির কাঁটায় ৮টা বেজে ৫২মিনিট। ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছেন হাসিনা বেগম (৭০)। চোখে ছলছল জল। ঘরের বারান্দায় ছেলের ছবির পাশে বসে আছেন স্বামী হারুন অর রশিদ (৮৪)। তাদের শরীরে দানা বেঁধেছে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ।

তাদের বাস কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ী গ্রামে। শনিবার তাদের বাড়িতে গিয়ে এমনই দৃশ্য দেখা গেলো।

এই দম্পতির দশ সন্তানের মধ্যে মেজো ছিলেন মাহবুবুর রশিদ। বড় ছেলে জন্মের দুই বছরের মধ্যে মারা গিয়েছিলেন। তাই রশিদই ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। যিনি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন।

এই বৃদ্ধ দম্পতির চোখে আজও অমলিন ছেলের স্মৃতি। তা বুকে ধারণ ও লালন করে চলেছেন। ছেলের নিহত হবার খবর শোনার পর মায়ের বুক কেঁপে উঠেছিল। নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন বাবা। ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকরের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা। তাদের বড় আশা, মরার আগে হত্যাকারীদের শাস্তি যেন দেখে যেতে পারেন।

১৯৬৮ সালে জন্মগ্রহণ করা মাহবুব ২০০১ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেন। কিছুদিন পরই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে যোগদান করেন। ২১ আগস্ট ঢাকা বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এ আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

image


জানতে চাইলে কথা প্রসঙ্গে বিলাপ করতে করতে বাবা হারুন অর রশিদ বলেন, 'এতদিন হয়ে গেল খুনিদের বিচার (শাস্তি) হলো না। শরীরে অ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট। মাসে ১৫-১৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। মৃত্যুর আগে খুনিদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। না হয় আমার আল্লাহই খুনিদের বিচার করবে। এখন আল্লাহর হাতেই ছাড়ে দিছি বিচার।’

বড় ছেলে মাহবুবুর রহমানই ছিলেন সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম। সেই ছেলেকে হারিয়ে বাবা হারুন অর রশিদের দুঃখ বার মাস। তবে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করতে গিয়ে ছেলের জীবন চলে যাওয়াকে তিনি শহিদ হিসেবে মনে করছেন। তাই ছেলের সমাধিস্থল সংস্কারসহ সেখানে বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান হারুন অর রশিদ।

কথা প্রসঙ্গে মৃদু স্বরে শুয়ে শুয়ে হাসিনা বেগম জানালেন, শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না। বুকের মধ্যে ধড়ফড় করে ওঠে। বয়সের ভারে এখন আর বুক ভরে শ্বাস নিতে পারি না। আগস্ট মাস আসলেই কষ্ট ও জ্বালা বেড়ে যায়।

image


প্রধানমন্ত্রী তাদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কোনো খবর রাখেন না। প্রতি বছরের মতো এবারও ছেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে বাড়িতে মিলাদ-মাহফিলের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতি মাসে কল্যান ফান্ড থেকে যে টাকা দেওয়া হয় তা এবং এক মেয়ের পাঠানো টাকা দিয়ে দু'জনের সংসার কোনো রকম চলে যায়। এছাড়া বাড়িতে গাভির দুধ বিক্রি করে ছেলের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য কিছু টাকা জমিয়ে রাখেন।

গ্রামের বাড়িতে শুধুমাত্র তারাই বাস করেন। প্রতি ২১ আগস্টের সপ্তাহখানেক আগে থেকে এই বাড়িতে সাংবাদিকেরা হাজির হন। কিন্তু তার ছেলেকে হাজির করতে পারে না কেউ। তবু বাবা মা আশায় বুক বেঁধে আছে ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় কার্যকর যেন দেখে যেতে পারেন। সেই খবর শোনার অপেক্ষায় থাকেন তারা।


একাত্তর/আরবিএস  

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা বলেছেন তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসবেন। আমিও বিশ্বাস করতে চাই তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে গণহত্যার দায় নিয়ে কারাগারে যাবেন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো....
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং জাতীয় সংসদের...
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ রক্তদান করেছে, হাজারে হাজারে শহীদ হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে,...
৯৬ সালে শেখ হাসিনকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছে। সে সময় তাকে প্রধানমন্ত্রী না বানালে শেখ হাসিনা একশ বছরেও এ দেশে প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।  
বাংলাদেশে ব্যবসা করা বহুজাতিক (মাল্টিন্যাশনাল) কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কেউ মারা যাননি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতেই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে।
সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি, শুভ জন্মাষ্টমী ধর্মীয় যথাযথ ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে। 
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর