দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা কুকুরের মাংস খেয়ে থাকে। তবে সব কোরীয় নাগরিকরা এই পশুটির মাংস খান না। এমনকি দেশটির রাজধানী সিউলেও এটি সহজপ্রাপ্য নয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়াতে কুকুরের মাংস খাওয়া হয় বলে এর বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই সোচ্চার বিশ্বের প্রাণী অধিকারকর্মীরা।
তাদের দাবি, কুকুরের মাংস খাওয়া যাবে না। এটির বিক্রিও নিষিদ্ধ করতে হবে। শেষ পর্যন্ত কোরীয় কর্তৃপক্ষ সেই ডাকে সাড়া দিতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায় আইন করে কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির রাজধানী সিউলে কুকুরের মাংস ব্যবসার বিরোধিতা করে সমাবেশ করেন কর্মীরা।
দক্ষিণ কোরিয়াতে শতাব্দী প্রাচীন এই রসনাটি নিষিদ্ধে যেমন নয়, তেমনি আবার বৈধও নয়। এমন সাংঘর্ষিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে এবার দেশটির সরকার কুরের মাংস বিক্রি এবং খাওয়া নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে আইন প্রবর্তনের পরিকল্পনা করছে, তা শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।
গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার নতুন আইনটি প্রস্তাব করে। দ্রুত প্রস্তাবটি সমর্থন দেয় দেশটির ক্ষমতাসীন পিপল পাওয়ার পার্টি। এতে বিলটি পাস করার জন্য যথেষ্ট সমর্থনও পাওয়া যায়। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের নীতি কমিটির প্রধান পার্ক ডাই-চুল বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় পোষা প্রাণী লালন পালন করে প্রায় ১০ মিলিয়ন পরিবার। তাই এখনই সময় কুকুর খাওয়া বন্ধ করার। মানুষ এবং প্রাণীদের সহাবস্থান থাকা উচিত। কুকুরের মাংস নিয়ে চালানো অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ কোরিয়াতে কুকুরের খামারের সংখ্যা অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু কুকুর খামারি সমিতির দাবি, প্রতি বছর এখনো ৭-১০ লাখ কুকুর খাওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যা করা হয়। অবশ্য এ সংখ্যা এক দশক আগের থেকে অনেকটা কমে গেছে। সিউলের আশেপাশেও বিক্রি কমেছে।
শিশু হত্যার প্রতিশোধে ২৫০ কুকুর খুন, অবশেষে দুই বানর আটক