শ্রমশক্তি রপ্তানির বিপরীতে প্রবাসী আয় না বাড়ার কারণ খুঁজতে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
তিনি বলেছেন, রেমিট্যান্স বাড়লে, বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্কটসহ চলমান অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে। তবে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের প্রধান বলছেন সরকারের তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ ছয় খাতে মনোযোগ দেয়া জরুরি।
সরকারী আয়-ব্যয় বা তহবিল ব্যবস্থাপনা সংস্কার কার্যক্রমে এরই মধ্যে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
পিএফএম নামক এই অ্যাকশন প্ল্যানে বাস্তাবায়নের ফলে ১৭৩ ধরনের সরকারি সেবা ফি পরিশোধ, রাজস্ব আদায়, সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, পেনশন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচীর সুবিধাভোগীদের অর্থ বরাদ্দও দেয়া সম্ভব হচ্ছে প্রযুক্তির মাধ্যমে।
সোমবার রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তারা বলেন, সরকারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে আরও অনেকটা পথ হাটতেঁ হবে সরকারকে। কেননা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর দক্ষ জনশক্তি আর সাইবার ঝুকিঁর মতো বিষয়গুলো আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ ।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, চলমান মন্দাভাব কাটাতে জরুরিভাবে খতিয়ে দেখা হবে প্রবাসী আয় কেন কমছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে শ্রমিক যাচ্ছে সন্তোষজনক হারে। তারপরেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় রেমিট্যান্স আসছে না। এটি বাড়ানো গেলে ডলারসহ চলমান সব অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলা করা সম্ভব। কেন প্রবাসী আয় বাড়ছে না তা খতিয়ে দেখতে সব পক্ষের পরামর্শ চায় সরকার।’
তিনি আরও জানান, প্রবাসী আয় বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের পথ খুজছেঁ সরকার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বরের প্রথম ২২ দিনে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ১০৫ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। গড়ে প্রতিদিন এসেছে চার কোটি সাড়ে ৭৯ লাখ যা গত মাসের তুলনায় কম।
এ ধারা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরের শেষে মাসিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৪৪ কোটি ডলার। যা আগস্টের তুলনায় ১৬ কোটি ডলার কম হবে।
গত মাসে রেমিট্যান্স এসেছিলো ১৬০ কোটি ডলার যা ছিল ছয় মাসে সর্বনিম্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খোলা মুদ্রাবাজারে ডলারের দর বেশি। তাই হুন্ডিতে রেমিট্যান্স পাঠাতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন প্রবাসীরা।
সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফজলে কবির বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্তা যেকোনা পরিবর্তনকে বাধা দেয়। প্রযুক্তির ব্যবহার সহজে মানতে চায় না। এই মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।
সাবেক অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি তহবিল ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থাগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার দরকার। বিশেষ করে ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং এবং বাজেট বিভাগকে আলাদা করে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রাগৈতিহাসিক নিয়ম কানুন, এক বেতনে তিন চাকরি আমলাদের; এতে করে কাজের চাপ যেমন বাড়াচ্ছে তেমনি দক্ষতা কমছে প্রকল্প বাস্তবায়নে।’
এ সময় বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের প্রধান জানান, সামষ্টিক অর্থনীতির টেকসইতা নিশ্চিতে বাংলাদেশকে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় ছয় খাতে সংস্কার চালিয়ে যেতে হবে
বিশ্ব ব্যাংকের বাংলাদেশ প্রধান আবদৌলায়ে সেক বলেন, ‘সরকারি তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হলে সুফল ভোগ করবে সাধারণ মানুষ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে আয়-ব্যয় খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’
