জাতীয় সংসদের অদ্ভুত এক আসন নড়াইল-১! কোনো কোনো নির্বাচনে এমনও হয়, যিনি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী তিনি আওয়ামী লীগ, আবার যিনি বিএনপি প্রার্থী, তিনিও আওয়ামী লীগ। আর যিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী তিনি তো দলেরই নেতা। বলা যায় এই আসনটির লড়াইয়ে মূলত আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ।
বিএনপি এবং অন্যান্য দলও আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রভাব এতো বেশি, যে তারা হালে পানি পান না। দলীয় কোন্দলে আসন হারানোর ভয়ে স্বয়ং শেখ হাসিনাকেই এই আসনে একবার নির্বাচন করতে হয়েছিল। অবশ্য কোনো নির্বাচনে এখানে হারেননি আওয়ামী লীগ নেতারা।
মনোনয়ন নিয়ে নানা নাটকীয়তার পর ২০০৮ সালে এই আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জয়ী হন আওয়ামী লীগ নেতা বিএম কবিরুল হক মুক্তি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, আওয়ামী জোটের প্রার্থী ওয়াকার্স পার্টির বিমল বিশ্বাস। অবশ্য এর পর ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনেও তিনি দলীয় মনোনয়নেই জয়ী হন।
সময়টা টানা ১৫ বছর। এর মধ্যে বড়দিয়া থেকে কালিয়া হয়ে খুলনা ফেরিঘাট পর্যন্ত ৫৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণসহ দৃশ্যমান কিছু উন্নয়ন হয়েছে। তবে কালিয়া পৌর এলাকায় পানি নিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ আছে ভোটারদের। আছে চাপা ক্ষোভও, যা বড় বিষয় হতে পারে নির্বাচনের সময়।
সম্প্রতি নড়াইল থেকে কালনা যাওয়ার পথে নবগঙ্গা নদের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজটি ভেঙে ফেলার ঘটনায় মানুষের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নকশা জটিলতার কারণে ৭০ ভাগ কাজ শেষ হওয়ার পর ব্রিজটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়। কবে নাগাদ সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে তা নিয়ে সংশয়ে আছে স্থানীয়রা।
অতীতের মতো এবারও নড়াইল এক আসনে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমান সংসদ সদস্য ছাড়াও আসনটিতে এবার আরও দুই প্রার্থী মনোনয়ন চাইছেন। এরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের দুই নেতা নিজাম উদ্দিন খান নিলু এবং কৃষ্ণপদ ঘোষ।
নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত হচ্ছে বিএনপিও। আওয়ামী লীগের দুর্গে ভাগ বসাতে একক প্রার্থী হিসাবে মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম । তিনি জানান, বিএনপি নির্বাচনে এলে এবার তিনিই হবেন দলের একক প্রার্থী।
দলীয় কোন্দলের জন্যে সারাদেশেই আসনটি আলোচিত। ২০০১ সালে আসনটি রক্ষায় খোদ শেখ হাসিনা নির্বাচন করেছিলেন এই আসনে। তার বিরুদ্ধে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেছিলেন আওয়ামী লীগ থেকে দুইবার নির্বাচিত এমপি ধীরেন্দ্রনাথ সাহা।
পরে ২০০২ সালের উপ-নির্বাচনেও তিনি বিএনপির টিকেটে এমপি হন। ভোটের হিসাবে আসনটি সব সময় নৌকার দুর্গ ছিল। আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মীরা জানান, মনোনয়নের ভুলে ইসিহাসে মাত্র দু'বার আসনটি আওয়ামী লীগের হাত ছাড়া হয়।
একাত্তর/আরবিএস
মাগুরা-১: শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ, অগোছালো বিএনপি