পটুয়াখালীতে সবগুলো সংসদীয় আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পর্যায়ক্রমে আসনভিত্তিক এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়।
পরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৯ জন প্রার্থীকে বৈধ, চার জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ১৫ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেন।
পটুয়াখালী-১ (পটুয়াখালী সদর, দুমকি, মির্জাগঞ্জ) আসনে আট জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. আফজাল হোসেন এমপি ও এনপিপির মোঃ নজরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া আয়কর খেলাপি হওয়ায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদারর, কাগজপত্র সঠিক না থাকায় তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী মো. খলিল, জাসদের কেএম আনোয়ারুজ্জামান মিয়া এবং বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মহিউদ্দিন মামুনের মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়।
ঋণ খেলাপী হওয়ায় বাংলাদেশ কংগ্রেসর নাসির উদ্দীন তালুকদার ও জাকের পার্টির মো. মিজানুর রহমান বাবুলেরের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে মনোনয়ন দাখিল করেন ছয় জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক চিফ হুইপ আ.স.ম. ফিরোজের মনোনয়নপত্রটি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কাগজপত্রে কিছু ত্রুটি থাকায় বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর জোবায়ের হোসেন, তৃণমূল বিএনপির মাহাবুবুল আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য হাসীব আলম তালুকদার ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মহসিন হাওলাদারের মনোনয়ন স্থগিত এবং জমা দেওয়া ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর মোহাম্মদের মনোনয়নপত্র প্রথমিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন সাত জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য এসএম শাহাজাদা, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব:) আবুল হোসেনের মনোনয়ন বৈধ এবং কাগজপত্রে ভুলত্রুটি থাকায় জাতীয় পার্টির মো. নজরুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ছাইফুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির ওবায়েদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ নূরে আলমের মনোনয়নপত্র স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে মোট সাত জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মো. মহিববুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রাথী কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সাবেক এমপি আনোয়ার-উল-ইসলামের ছেলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম লিটনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় জাতীয় পার্টির আব্দুল মন্নান হাওলাদার , জাসদের বিশ্বাস সিহাব পারভেজ মিঠু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর হোসাইনের মনোনয়নপত্র স্থগিত এবং প্রদত্ত ভোটার তালিকায় গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাবিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিসার মো. নুর কুতুব উল আলম বলেন, স্থগিত প্রার্থীরা ভুলত্রুটিগুলো সংশোধন করে দিলে তাদের বৈধ ঘোষণা করা হবে।
যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে তাদেরও আপিলের সুযোগ রয়েছে।
সিরাজগঞ্জে তিন আসনে সব স্বতন্ত্রের মনোনয়ন বাতিল
পঞ্চগড়ে দুটি আসনে বৈধ প্রার্থী ১৬, মনোনয়ন বাতিল চার
নোয়াখালীতে আ.লীগের কিরণ ও বিকল্পধারার মান্নানের মনোনয়ন বাতিল
লক্ষ্মীপুরে দুই আসনে বৈধ প্রার্থী ১৩, বাতিল ৫, অপেক্ষমান ৪
মানিকগঞ্জে জাতীয় পার্টির সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল