আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, তারা বুধবার নির্বাচনের পরিবেশন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছে।
বুধবার রাজধানীর বনানীতে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গণমাধ্যমের আলাপকালে এ কথা বলেন চুন্নু।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নির্বাচনী যুদ্ধে নেমেছে।
এবারও জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকতে পারে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, উনি হয়তো আবেগে বলতে পারেন। আমরা তো জোট, মহাজোটের না।
মহাজোটে জাপা থাকবে তথ্যমন্ত্রীর এমন ইঙ্গিত প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, জানি না তিনি ইঙ্গিত দেন কীভাবে। কারণ মহাজোটে বা জোটে থাকতে হলে তো, ইসিকে চিঠি দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জানাতে হবে। উনি হয়তো আবেগে বলতে পারেন, তবে আমরা তো জোট, মহাজোটের না। এককভাবে লাঙ্গল নিয়ে আমরা নৌকার সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছি। যুদ্ধ করবো, নির্বাচন যুদ্ধ হবে উনাদের সঙ্গে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় পার্টি প্রায় ৩০০ আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তারা যেভাবে নির্বাচন যুদ্ধে নেমেছে, সে জন্য তাদের অভিনন্দন জানাই। জাতীয় পার্টির সঙ্গে ২০০৮ সালে আমরা জোটগতভাবে মহাজোট গঠন করেছিলাম, গতবারও তারা আমাদের সঙ্গে ছিল, এবারও সেটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বৈঠক ও আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে চুন্নু বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছেন যে, নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলবো। বৈঠকের জায়গা ঠিক হয়নি, বিকেলের পর সময়টা আমরা জানবো।
আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে জাপা মহাসচিব বলেন, ওই ধরনের কোনো বার্গেনিং এ আমরা নাই। আমাদের বার্গেনিং একটাই ইসির কাছে, যেন নির্বাচন সুষ্ঠ হয়। একটা ভালো পরিবেশ, বিশ্বাস যোগ্য পরিবেশ, ভোটাররা আসার যেন আস্থা পায়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা হলেও এই নির্বাচনের পরিবেশ নিয়েই আলোচনা হবে। এর বাইরে কোনো আলোচনা হবে এ রকম কোন ইঙ্গিত, কথা আমরা জানি না। কোন সাবজেক্ট আলোচনা হবে এটা বলেন নাই।
চুন্নু বলেন, আসন নিয়ে বৈঠক হবে এই ধরনের কোনো প্রস্তাব আমরা পাই নাই অফিশিয়ালি। অফিশিয়ালি প্রস্তাব পেয়েছি নির্বাচনী পরিবেশ, পরিস্থিতি নিয়ে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপার বৈঠক হয়েছে এমন গুঞ্জন শোনা যায়। এ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয় নাই। আওয়ামী লীগের কয়েকজন সম্মানিত নেতা আমাকে ও আমাদের চেয়ারম্যানকে ফোনে বলেছে, নির্বাচনের পরিবেশ, পরিস্থিতি নিয়ে, নির্বাচনটা যাতে ভালোভাবে করা যায়, সবাই করতে পারে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য। যেহেতু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কথা বলবেন, আমরা বললাম ঠিক আছে, আমরা কথা বলবো-এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকে সন্ধ্যার পর উনাদের সঙ্গে বসবো।
২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টিসহ আরো কয়েকটি দল নিয়ে গঠন করা হয় মহাজোট। ওই নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে মহাজোট।
এরপর ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট না করেই নির্বাচন করে জাতীয় পার্টি। ওই ভোটে জোট না থাকলেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আছে, এমন ৩৪টি আসনে প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ।
এসব আসনেই জয় পায় দলটি। ভোটের পর সংসদে বিরোধীদলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। আবার সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও থাকেন দলটির কয়েকজন। দলীয় প্রধান এইচ এম এরশাদ হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত।
আবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে না থাকলেও ভোটে আসন ভাগাভাগি করে। গত সংসদ নির্বাচনের তাদেরকে দেওয়া হয় ২৬টি আসন, এর মধ্যে তারা জয় পায় ২৩টিতে। এই সংসদেও বিরোধীদলের আসনে রয়েছে জাতীয় পার্টি।
চুন্নু বলেন, ভোটে একটা দল গেলে তার প্রার্থী বাছাই, মনোনয়ন দেওয়া, সেইগুলো আবার সরকারিভাবে বাছাই করা, আপিল, হিয়ারিং এ সব ভোটের প্রক্রিয়া। নির্বাচনে যাওয়া এখন না, নির্বাচনে যাওয়ার পূর্ব প্রস্তুতি। ১৮ তারিখ প্রতীক বরাদ্দ হবে। তারপর যখন আমরা মাঠে খেলতে যাবো তখন মাঠের কী অবস্থা, দর্শক কী চায়, দর্শকের অবস্থা, দর্শক নিরাপদ কি না তখন বুঝতে পারবো। তখন আমরা একচুয়াল অবস্থা চিন্তা করবো। এর আগে অ্যাডভান্স কোনো সমস্যা বলা যাবে না। ইসিতো বার বার জোরালোভাবে বলছে তারা আপোষহীন,ভোট ভালো করবে। সরকার প্রধানও বলছে এইবার নির্বাচনে তিনি খুব সিরিয়াস। ভালো পরিবেশ যদি হয়, ভোটাররা আসবে। সেটা তো তারা এখন বলছেন মুখে, বাস্তব এটার প্রতিফলন হবে কি না ১৮ তারিখের পরে মাঠে গেলে আমরা বুঝতে পারবো।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হচ্ছে জাতীয় পার্টির?