আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে সংঘর্ষ ও বোমাবাজি এখন নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এই আসনে ভোটের মাঠে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে এসব ঘটনা।
গত এক মাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ককটেল হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে- জেলা নির্বাচন অফিস, প্রার্থী বাড়ি, জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পাশের টেনিস গ্রাউন্ড, জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বর, জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পাশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
এছাড়া শহরের শান্তি মোড়, আরামবাগ এবং ফুড অফিস মোড় মসজিদের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ করেছে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা বলছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল এতোই সহজলভ্য যে, কিছু হলেই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে।
আর ভোটের মাঠের ককটেল বিস্ফোরণের দায় চাপানো হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ঘাড়ে।
নৌকার প্রার্থী আব্দুল ওদুদের অভিযোগ, এসব ঘটনা ঘটাচ্ছেন বিএনপি থেকে বিএনএমে যোগ দিয়ে নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী হওয়া মোহাম্মদ আব্দুল মতিন। তবে তিনি এসব অভিযোগ মানতে চাচ্ছেন না।
মতিনের উল্টো অভিযোগ, তার বাড়িতেই বোমা মারা হয়েছে, সমর্থকদের নির্যাতন করা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
ওদুদ-মতিনের ভোটের লড়াই

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থী। ওদুদ ও মতিন ছাড়াও ভোটের মাঠে রয়েছেন বিএনএফের টেলিভিশন প্রতীকের কামরুজ্জামান খাঁন ও এনপিপির আম প্রতীকের নাহিদ আহম্মেদ।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ ছেড়ে আব্দুল মতিন সম্প্রতি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে (বিএনএম)। ভোটের তফসিল ঘোষণার পর, নোঙ্গরের প্রার্থী হয়ে চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা।
মতিন বলেন, নৌকার প্রার্থী ভোটারদের ভয় ভীতি দেখাচ্ছেন। সমর্থকদের উপর হামলা করাচ্ছেন। তবে তাতেও কাজ হবেনা, নির্বাচনে জয় তার পক্ষেই আসবে।
আব্দুল মতিনকে সমর্থন দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশ। এদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রের মতো জনপ্রতিনিধি।
তবে দলীয় বিভাজনকে পাত্তা দিচ্ছেন না নৌকার প্রার্থী ও তিনবারের সংসদ সদস্য আব্দুল ওদুদ। তার দাবি তৃণমূল আওয়ামী লীগের একটি অংশ বরাবরই এমন কাজ করে এসেছে।
জামায়াত-বিএনপি অধ্যুষিত নির্বাচনী এই আসনে গেলো কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের ভোট বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে বিভাজিত আওয়ামী লীগের কারণে নির্বাচনের ফলের হিসেব পাল্টে দিতে পারে বলেও তাদের ধারণা।
১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আসনে বিজয়ী হন জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির প্রার্থীরা। ২০০৮ ও ২০১৪ সালে নির্বাচনে জয়ী হন আব্দুল ওদুদ। ২০১৮ সালে নির্বাচিত হন বিএনপির হারুনুর রশীদ। পরে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসেন আব্দুল ওদুদ।
প্রচারে আচরণবিধি মানছেন না বেশিরভাগ প্রার্থী
গাজীপুর-২ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস