গাজীপুর-২ আসনে এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া গেছে। এখানে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাহিদ আহসান রাসেলের মুখোমুখি দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আলিম উদ্দিন ও যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম। তাদের প্রচারে চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ভোটাররা বলছেন, ভোট যতো এগিয়ে আসছে, এই আসনে ততই শঙ্কা বাড়ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের সমর্থক আর বিরোধী দুই পক্ষের বিতণ্ডা হচ্ছে। নির্বাচনী ঢাক-ঢোলের মধ্যেই নিজেদের আক্ষেপ জানাচ্ছিলেন টঙ্গীর দুই ভোটার।
তাদের একজন বলেন, ১৫ বছরের ধরে আমি কোনো কিছু দাম কমতে দেখিনি।
বাজারে যখন অস্থিরতা তখন গাজীপুর সদরের এই আসনে ভোটের নতুন সমীকরণে দ্বিধান্বিত ভোটাররাও।
ভোটারটা বলছেন নৌকার বাইরে অন্য কোনো প্রতীকের তেমন কোনো প্রচারণা দেখা যায় না।
ভোটারদের এমন দুশ্চিন্তার মধ্যেই জোরে শোরে চলছে নির্বাচনের প্রচার। পোস্টারে ছেয়ে গেছে মূল সড়ক থেকে গলিপথ। গাজীপুরের এই আসনে প্রার্থী এবার ৯ জন। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে।
গাজীপুর-২ আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন বলেন, মানুষ ভোট দিতে পারলে আপনারা ফল দেখতে পাবেন। আমার পোস্টার ছিড়ে ফেলাসহ নানানভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে তার পক্ষে কাজ করছেন সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর। তার দাবি পরিবারতন্ত্রের বিপক্ষে তার অবস্থান।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মানুষ পেশি শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে চায়।
তবে প্রচারে এলাকাবাসীর ব্যাপক সাড়া পাবার কথা বলছেন নৌকার প্রার্থী জাহিদ আহসান রাসেল। নিজের পোস্টার ছিড়ে ফেলা ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করছেন বর্তমান সাংসদ।
তিনি বলেন, আমি গাজীপুর-২ আসনের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আশা করছি বিপুল ভোটে নৌকার বিজয় হবে।
গাজীপুরের এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৭ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৯১ হাজার ৩৭০ জন এবং নারী ভোটার ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৭ জন। ৯ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন এ আসনে।
মোট ৯ জন প্রার্থী আসনটি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে নৌকার জাহিদ আহসান রাসেল ছাড়াও রয়েছেন তরিকত ফেডারেশনের সৈয়দ আবু দাউদ মছনবী হায়দার (ফুলের মালা), জাতীয় পার্টির জয়নাল আবেদীন (লাঙল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের রেহানা আক্তার রিনা (ডাব), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির-এনপিপি কাজী হাসিবুর রহমান রাব্বী (আম), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির জাহাংগীর আলম (একতারা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আমির হোসাইন (চেয়ার), স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (ঈগল) ও কাজী আলিম উদ্দিন (ট্রাক)।
ভোটের মাঠে থাকছেন ২০ হাজার ৭৭৩ দেশি পর্যবেক্ষক 