মানিকগঞ্জের পাটুয়ারিয়ার ফেরি ডুবির চার দিন পার হলেও এখনও তা উদ্ধার করা যায়নি। উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয় চতুর্থ দিনে কাজে হাত দিলেও অতলে ডুবে আছে ফেরি রজনীগন্ধা। খোঁজ মেলেনি সহকারী মাস্টার হুমায়ুন আহমেদের। ডুবুরিরা এখনও হদিস পায়নি ডুবে যাওয়া ছয়টি ট্রাকের। তাই বসিয়ে রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তমকে।
শনিবার সকাল ১০টা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু হলেও সন্ধ্যে ছয়টা পর্যন্ত ডুবে থাকা ফেরিটি ভাসাতে পারেনি প্রত্যয়।
এদিন সন্ধ্যায় চতুর্থ দিনের উদ্ধার কাজের ইতি টেনে বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, ফেরির নিচের অংশে বাতাস দিয়ে ফেরিটিকে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ফেরিটিতে বেশ কয়েকটি ফাটল থাকায় (এয়ার লিফটিং ব্যাগ) এই পদ্ধতি কাজে আসেনি। এখন ফেরির একপাশে মোটা তার পরানো হয়েছে। অন্য পাশেও পরানোর কাজ চলছে। সেটি হলে পুল দিয়ে দেখা হবে কী অবস্থায় আছে ফেরিটি। এছাড়া ডুবে যাওয়া ট্রাকগুলো শনাক্ত করতে আরও ঝিনাই নামের আরও একটি উদ্ধারকারী জাহাজ আনা হচ্ছে। রোববার সেটি এলে মাল্টি ভিম ইকো সাউন্ডের মাধ্যমে নদীর তলদেশ থেকে শনাক্ত করার কাজ শুরু হবে।
আর অপর দুইটি উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ও রুস্তমকে আপাতত বসিয়ে রাখা হয়েছে। ট্রাক শনাক্ত করা গেলে সেগুলোর তোলার কাজে হামজা ও রুস্তমকে ব্যবহার করা হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুর সোয়া দুইটার দিকে পাটুরিয়ার পাঁচ নম্বর ঘাটের কাছে দুর্ঘটনাস্থলের পাশে পৌঁছায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়।
গত বুধবার (১৭ জানুয়ারি) দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা ফেরি রজনীগন্ধা সকাল আটটার দিকে পাটুরিয়া পাঁচ নম্বর ফেরি ঘাটের অদুরে নোঙ্গর করা অবস্থায় ছোট-বড় ৯টি যানবাহন এবং চালক-সহকারীসহ ২১ জন নিয়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় ২০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ফেরির সহকারী ইঞ্জিনচালক হুমায়ন কবির এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ফেরি ডোবার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ গঠিত দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। সাত কর্মদিবসের মধ্যে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
আট ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল শুরু