আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফরম বিক্রি চলবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত।
আগ্রহী প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট বুথ থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং জমা দিতে হবে।
দলীয় সূত্রমতে, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের মধ্যে অধিকাংশই এবার বাদ পড়ছেন। নতুন মুখ হিসেবে আসতে পারেন আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রাখা দলের পরীক্ষিতরা। যদিও পুরনো এমপিদের কেউ কেউ আবারও মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। একেকটি রাজনৈতিক দল ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পান। সেই হিসেবে এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২২৩টি আসনের বিপরীতে ৩৭টি আসন পাবার কথা। তবে, ৬২ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যের মধ্যে মতৈক্য হওয়ায় তাদের ভাগের ১০ আসনেও আওয়ামী লীগই প্রার্থী দেবে। আর এগারো আসন পাওয়া বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পাচ্ছে দুটি সংরক্ষিত নারী আসন।
সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন পেতে এরিমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। দলীয় কার্যালয়েও বেড়েছে তাদের উপস্থিতি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের অংশ নিয়ে পরে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা অনেক নেত্রীও আছেন এই তালিকায়। বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার পাশাপাশি আছেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীও।
দলীয় সূত্র বলছে, এবার নতুনরা প্রাধান্য পাবেন। তবে নতুন পুরনো মিলিয়েই হতে পারে সংরক্ষিত নারী সদস্য, বলছেন চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী।
সংরক্ষিতদের কেউ কেউ যোগ্যতার বিচারে পেতে পারেন মন্ত্রীত্বও। দলের ত্যাগী কর্মীদের পাশাপাশি পেশাজীবীদের মধ্য থেকেও সদস্য বাছাই করতে পারেন দলীয় সভাপতি।
দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে বলে জানান নেতারা।
সোমবার বিকালে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং তৃতীয় তলায় রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় সকল বিভাগের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কোনো প্রকার অতিরিক্ত লোকসমাগম ছাড়া প্রার্থী নিজে অথবা প্রার্থীর একজন যোগ্য প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ ও জমা দিতে হবে। আবেদনপত্র সংগ্রহের সময় অবশ্যই প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সঙ্গে আনতে হবে এবং ফটোকপির ওপর মোবাইল নাম্বার ও সাংগঠনিক পরিচয় সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
১৪ দলীয় শরিকদের জোটবদ্ধ করার এবং স্বতন্ত্রদের সমর্থনের চিঠি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
সাত জানুয়ারির নির্বাচনে ২২২টি আসনে বিজয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। জোটের নেতারা নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে আরও দুটি আসন পেয়েছে।
জাতীয় পার্টি পেয়েছে ১১টি আসন আর কল্যাণ পার্টি পেয়েছে ১টি আসন। তবে প্রথমবারের মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন রেকর্ড ৬২টি আসন, যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নেতা।
২৯৯টি আসনে নির্বাচন হলেও গোলযোগের কারণে একটি আসনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়।
১০ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভা 