আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেটের লাগামহীন দৌরাত্মে বাজার এখন নিয়ন্ত্রণহীন। পুরো দেশকে যাতনাময় করে তুলেছে কারচুপির ভোটের সরকার। নিত্যপণ্যের বাজার এখন সরকারের সিন্ডিকেটের দখলে। রমজানকে সামনে রেখে এখন থেকেই ক্ষমতাসীন দলের জনগণের পকেট কাটতে উঠে পড়ে লেগেছে।
রিজভী আরও বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার যে সরাসরি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তা বিভিন্ন সময় ইশারা ইঙ্গিতে আওয়ামী লীগের নেতারা প্রকাশ্যে বলেছেন। বাজারে দ্রব্যমূল্যের আগুনে পুড়ছে সাধারণ মানুষ আর অর্থের পুকুরে সাঁতার কাটছে সরকারের লোকজন।
সোমবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চাল, ভোজ্যতেল, চিনি ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমানোর ঘোষণা দিলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব তো পড়েইনি, উল্টো গত ১০ দিনে রমজানসংশ্লিষ্ট কয়েকটি পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বাজারে সরকারের তদারকি নেই- কারণ সবাই আওয়ামী লীগের লোক।
তিনি আরও বলেন, শুল্ক কমানোর পরে ঐ ৪টি পণ্যের দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমার কথা, কিন্তু কমেনি তো বটেই বরং এই চারটি পণ্যের দাম কেজিতে ১০/২০ টাকা বেড়ে গেছে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩৪ টাকা দরে, যা এক সপ্তাহ আগে ১৩২ টাকায় বিক্রি হতো। এখন খুচরা বাজারে খোলা চিনির কেজি ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, গ্যাস নেই, রাস্তায় যানজট, বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং, দুর্গন্ধময় ওয়াসার পানি, বাজারে আগুন। আওয়ামী সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন ঘোড়ার পিঠে চড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে ছাত্রলীগ গড়ে তুলেছে নারীর শ্লীলতাহানিসহ সন্ত্রাস আর নৈরাজ্যের অভয়ারণ্য।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন রক্তাক্ত এবং নারীদের জন্য বিপজ্জনক স্থান। সরকারী দলের প্রশ্রয়ে শহর, নগর, বন্দরে দাপিয়ে বেড়ানো কিশোর গ্যাংয়ের ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হামলা ও খুনাখুনিতে মানুষ আতঙ্কিত। সব মিলিয়ে কেবল এই রাজধানী ঢাকা নয়, পুরো দেশটাকেই যাতনাময় বিষাদলোকে পরিণত করেছে সরকার।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক চরিত্র হারিয়ে আওয়ামী লীগ এখন বন্দুক নির্ভর দলে পরিণত হয়েছে। এই দলটির সব পর্যায়ের নেতাদের কথাবার্তায়, আচার-আচরণে জনগণের প্রতি অশ্রদ্ধা, অবহেলা ফুটে উঠছে। বিরোধীদলের ওপর নির্যাতন চালানোই যেনো এই সরকারের লক্ষ্য। মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে অথচ সমস্যার দিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না ক্ষমতাসীনরা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন বিএনপি উগ্রবাদী দল।
এর উত্তর দিয়ে রিজভী বলেন, আসলে আওয়ামী লীগের জড় পদার্থে পরিণত হয়েছেন ওবায়দুল কাদের। যা বলে দেয়া হয় তাই তিনি তাই বলেন। তিনমাসে বিএনপির ত্রিশ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে- উল্টো ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে উগ্রবাদী দল বলছেন। মূলত ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য বিরোধের ছায়াকে প্রলম্বিত করে।
তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বেছে বেছে টার্গেট করে হত্যা করছে আওয়ামী লীগ। প্রতিদিন আওয়ামী লীগের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, বাড়ি ছাড়া অবস্থায় রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ দপ্তর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
