সারাদেশে সাড়ে চার লাখের বেশি রেস্তোরাঁর ভেতর শুধু রাজধানীতেই আছে পাঁচ হাজারের বেশি। এগুলোর আবার ৩৫ শতাংশই এসি রেস্তোরাঁ, যেখানে নেই পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা। আছে সিলিন্ডারজনিত বড় ঝুঁকি। বেইলি রোডে আগুনের ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, যে সব সংস্থা এসব অনুমোদনে দেয়, তাদের কাজই প্রশ্নবিদ্ধ।
২০২৪ এর লিপ-ইয়ার ফেব্রুয়ারির শেষ দিনটি কালো দিন হয়ে থাকবে। বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো এই মহানগরে অগ্নি নিরাপত্তার দুর্বলতায় মানুষের জীবন কত সস্তা? এই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব আসলে কার?
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির হিসেবে সারাদেশে রেস্তোরাঁ ও খাবারের হোটেলের সংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি। শুধু রাজধানীতেই আধুনিক রেস্তোরাঁ পাঁচ হাজারের বেশি। এগুলোর ৩৫ শতাংশই এসি রেস্তোরাঁ। সেগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা কেমন, গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপদ কি না? সেসব দেখার দ্বায়িত্ব কার?
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. ফিরোজ আলম সুমন বলেন, সরকার আমাদের তোয়াক্কাই করে না। যে যার মতো আইন প্রয়োগ করে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, আমরা একটা কর্তৃপক্ষের তদারকিতে আসতে চাই।
দোকান মালিক সমিতির এই নেতা বলছেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেই। সমিতির সদস্য হত তাদের বাধ্যবাধকতা নেই। যদিও সরকারি-বেসরকারি মিলিতে ১২ সংস্থা রেস্তোরাঁ তদারকিতে কাজ করতে পারে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব জহির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, আমরা দোকানদারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আরও বেশি কাজ করতে পারি।
এই অগ্নি নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, অগ্নিকাণ্ড হলে সবার ঘটনার পরই সকলে নড়েচড়ে বসে। এর আগে নোটিশ বা সতর্কতাও কেউ আমলে নেয় না। তার মতে এখন সময় এসেছে জীবনের ঝুঁকি কমাতে হবে।
অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ লে. কর্নেল জুলফিকার বলেন, যার যেটা দেখার, যতটুকু নিশ্চিত করার, সেটা নিশ্চিত করি। ব্যবসা করার জন্য ওই বিল্ডিংয়ের ওই জায়গাটুকু যদি অপর্যাপ্ত হয়, যদি ব্যবসার জন্য উপযুক্ত না হয় সেটা থামাতে হবে।
