যানজট ও অপরিচ্ছন্ন নগরী ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। পৌরসভার আদল থেকে বেরিয়ে ২০১৮ সালে সিটি কর্পোরেশনে রূপ পেয়েছে এই নগরী। কিন্তু লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। দেশের অন্য শহরের মতো এটিও বাড়ছে অপরিকল্পিতভাবে। শহরজুড়ে যানজট নিত্যদিনের চিত্র।
ভোগান্তি দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের নজর কাড়তে চাইছেন আসন্ন সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা।
ময়মনসিংহ শহরের মাঝ দিয়েই চলে গেছে রেললাইন। ২১ বর্গ কিলোমিটারের এই শহরজুড়ে আছে কমপক্ষে সাতটি রেলগেট। একেকটি ট্রেন যায় আর রেল গেটের সিগনালে আটকা পড়ে গোটা শহর। সড়কে তৈরি হয় যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যানবাহনের এই জট লেগে থাকে দিনভর। ছড়ায় পুরো শহরে।
শহরে ভোগান্তির আরেক নাম ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। ময়মনসিংহে এমন বাহনের সংখ্যাটা প্রায় ১৮ হাজার। এতো বিপুল যানবাহনের চাপ নেয়ার মতো সাধ্য নেই এই শহরের। সরু রাস্তায়, সুবিধার চাইতেও অসুবিধার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে অপরিকল্পিত এই গণপরিবহন।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি চান।
একটি পরিচ্ছন্ন ও শৃঙ্খলার নগরীই শহরবাসীর একমাত্র চাওয়া। সম্ভব বা অসম্ভব যাই হোক প্রতিশ্রুতিতে পিছিয়ে নেই আসন্ন সিটি নির্বাচনের মেয়র প্রার্থীরাও।
ঘড়ি মার্কা মেয়র প্রার্থী ইকরামুল হক টিটু বলেন, আমাকে নির্বাচিত করা হলে যত অসম্পূর্ণ কাজ আছে এবং যেসব দাখিলকৃত প্রকল্প আছে- তা দ্রুত শেষ করবো। আমরা ময়মনসিংহকে একটা সমৃদ্ধ ময়মনসিংহ করতে চাই।
মেয়র প্রার্থী হাতি মার্কার সাদেকুল হক খান মিল্কি অবশ্য বলছেন, তিনি অবকাঠামো উন্নয়নে নজর দিতে চান। তিনি শহরের বাইরে সড়ক নির্মাণের পক্ষে। তার মতে, তাতে চাপ কমবে নগরীতে।
আগামী ৯ মার্চের ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে পাঁচজন মেয়র প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। তারা হলেন- সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইকরামুল হক টিটু (দেওয়াল ঘড়ি), শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু (হাতি), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলমের (ঘোড়া), কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সদস্য কৃষিবিদ রেজাউল হক রেজা (হরিণ) এবং জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম স্বপন মণ্ডল (লাঙ্গল)।
এবার নগরীতে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩২ পুরুষ, ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৫ নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। ভোটাররা ৯ মার্চ ইভিএমে ১২৮ কেন্দ্রে ভোট দেবেন।
মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১৪৯ এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আছেন ৬৯ জন।
নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ফরহাদ আলম বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় কাউন্সিলর পদে ৩২ ওয়ার্ডে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সাক্কুর উঠান বৈঠকে ককটেল বিস্ফোরণ