আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকাকে তার বাবার কবরের পাশেই দাফন করা হয়েছে।
শনিবার বিকাল ৩টায় কুমিল্লা সরকারি কলেজ মাঠে অবন্তিকার জানাজা হয়। জানাজায় অবন্তিকার বিভাগের সহপাঠীরা ছাড়াও স্থানীয় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
এর আগে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বাগিচাগাঁওয়ের বাসার সামনে আনা হয় অবন্তিকার মরদেহ।
অবন্তিকার বাবা মো. জামাল উদ্দিন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ও কুমিল্লা সরকারি কলেজে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন। ২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল রোজার সময় তিনি মারা যান।
মৃত্যুর আগে তিনি কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা শহরতলির শাসনগাছা মহাজন বাড়ি এলাকায়।
অবন্তিকার মা তাহমিনা শবনম কুমিল্লা পুলিশ লাইনস উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। অবন্তিকার ছোট ভাই অপূর্ব আগামীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী।
শুক্রবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাইরুজ অবন্তিকা গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেন। অবন্তিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে অবন্তিকা এ ঘটনার জন্য আম্মান সিদ্দিকী নামে তার এক সহপাঠীকে দায়ী করেছেন। একইসঙ্গে সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীকে দায়ী করে ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ফাইরুজ অবন্তিকার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবিতে ক্যাম্পাস এলাকায় টায়ারে আগুন নিয়ে রাতে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার রাত থেকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেন। শিক্ষার্থীরা সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দীকির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ তুলেন। পরে দোষী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর শাস্তির দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযোগ ওঠা আইন বিভাগের (২০১৮-১৯) সেশনের শিক্ষার্থী রায়হান সিদ্দিকী আম্মানকে সাময়িক বহিষ্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সহায়তাকারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রক্টরিয়াল বডি থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
‘কার কাছে বিচার দেব’