কয়লা ধুলে ময়লা যায় না- এমন প্রবাদের সঙ্গে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাই করে পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সোমালি জলদস্যুরা। এখন পর্যন্ত তারা জাহাজটিতে থাকা নাবিক ও ক্রুদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
কিন্তু দস্যু বলে কথা। শারীরিকভাবে নির্যাতন না করলেও, জাহাজটির সীমিত খাদ্য ভাণ্ডারে ভাগ বসিয়েছে তারা। এতে করে দ্রুত করে খাবার শেষ হয়ে যাবার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিবারের কাছে পাঠানো এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের চিফ অফিসার আতিক উল্লাহ খান একটি অডিও বার্তায় এমন চিত্র উঠে এসেছে।
তিনি জানান, জিম্মি হবার দিন তাদের কাছে ২০-২৫ দিনের খাবার মজুত ছিলো। পানি ছিল দুশ’ টনের মতো। প্রতিবেলায় এখন ৩০ জলদস্যু নাবিকদের সঙ্গে খাবার খাচ্ছে। এ কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে খাবার ও পানি। দুবাই যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ।
পুরো জাহাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাহাজের বিভিন্ন অবস্থানে একে-৪৭ ও মেশিনগানসহ নিরাপত্তা প্রহরী বসানো হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে আগের অবস্থান থেকে সরিয়ে সোমালি উপকূল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙর করা হয়েছে জাহাজটি।
জলদস্যুরা নাবিকদের জাহাজের স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাদের স্বজনরা। নাবিকদের সাথে কথা বলতে জাহাজে ইংরেজি ইন্টারপ্রিটারও নিয়োগ করেছে জলদস্যুরা। নাবিকরা সুস্থ রয়েছেন। তবে খাবার পানির সংকট তৈরি হতে পারে।
অডিও বার্তায় আতিক উল্লাহ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এখনও খাবার আছে। কিন্তু জলদস্যুরাও আমাদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করছে, আমাদের পানি ব্যবহার করছে। তাই এই খাবার আর কতদিন যাবে সেটা বলতে পারছি না। আর হয়তো ১০-১৫ দিন যেতে পারে। এরপর খাবার ও পানি শেষ হয়ে গেলে কষ্টে পড়ে যাব।
তিনি জানান, জিম্মি ২৩ নাবিককে শারীরিকভাবে নির্যাতন না চালালেও তাদের খাবারে ভাগ বসাচ্ছে দস্যুরা। ফলে দ্রুতই খাবার ফুরিয়ে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া অস্ত্রের মুখে দস্যুদের সব কথা মেনে চলতে হচ্ছে বাংলাদেশি ২৩ নাবিককে, যে কারণে মানসিক একটা চাপ ও ভয়ভীতির মধ্য দিয়ে কাটছে তাদের।
জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন। দশ বছর আগেও সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়েছিলো কবির গ্রুপেরই জাহাজ ‘এমভি জাহান মনি’। নানা দর কষাকষি করে তিন মাস ১০ দিন পর সেই জাহাজ ও জিম্মি নাবিকদের দেশে ফেরানো হয়েছিলো।
সোমিলি উপকূলে জিম্মি জাহাজটির অবস্থান পরিবর্তন