সমালোচনা সরিয়ে এবার জাপানের অ্যানিমেশন সিরিজ ‘ড্রাগন বল’-এর আদলে থিম পার্ক তৈরি করছে সৌদি আরব। আর পার্কের মাঝখানে জাপানি সংস্কৃতির আদলে নির্মাণ করা হবে ৭০ মিটার উঁচু একটি ড্রাগন।
ধর্মীয় রক্ষণশীল সংস্কৃতির দেশ হিসেবে পরিচিতি সৌদি আরবে এই প্রথমবারের মতো জনপ্রিয় অ্যানিমেশন সিরিজ ও মিডিয়া ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর ভিত্তি করেই পার্কটির নির্মাণ কাজ চলছে।
রাজধানী রিয়াদের কাছেই নির্মাণাধীন অন্যতম বড় বিনোদন ও পর্যটন প্রকল্প ‘কাদিয়া’। এখানেই বিশ্বে প্রথামবারের মতো নির্মাণ করা হবে ‘ড্রাগন বলের’ আলোকে থিম পার্ক।
তেল নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে অর্থনীতির বহুমুখীকরণ উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এছাড়াও সৌদির আধুনিক অর্থনীতির জন্যও নেয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।
মরুভূমির মাঝে গড়ে উঠছে আস্ত একটা ‘জাদু’ শহর, সেখানে থাকবে বিলাসবহুল রিসোর্ট, হোটেল, ভাসমান পরিকাঠামো, কৃত্রিম সমুদ্রের মাঝে আস্ত দ্বীপ। ২০২১ সালে ‘দ্য লাইন’ নামের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের ঘোষণা করে সৌদি সরকার। এই প্রকল্পের অধীনে এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমনের স্বপ্নের শহর নিওম।
থিম পার্কের বিষয়ে কাদিয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি থেকে বলা হয়েছে, পাঁচ লাখ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা হবে থিম পার্কটি। পুরো অর্থায়নই করবে সৌদি সরকার।
অফিশিয়াল তথ্য বলছে, পার্কে বিশাল আকারের ড্রাগন স্থাপনার ভেতরে থাকবে একটি রোলার কোস্টার।
‘ড্রাগন বল’-এর জাপানি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টোয়েই অ্যানিমেশন ও কিউআইসির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারির অংশ হিসেবে থিম পার্কটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে ড্রাগন বল’ সিরিজের ভক্তরা সৌদি আরবের এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও, অন্যরা নেমেছেন এর সমালোচনায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা সৌদি আরবে এ ধরনের পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গও টেনেছেন তারা।
কমিক সিরিজ ‘ড্রাগন বল' এর যাত্রা শুরু ১৯৮৪ সালে। নিজেকে সুপার পাওয়ারের অধিকারী করতে ‘জাদুকরী ড্রাগন বল’ সংগ্রহে সন গোকু নামের একটি ছেলের চেষ্টাকে ঘিরে সিরিজটির কাহিনী।
জাপানে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ও আকর্ষণীয় কমিক সিরিজ এটি। সিরিজের জনক আকিরা তোরিয়ামার মৃত্যুর কয়েক দিন পর এই থিম পার্ক নির্মাণ পরিকল্পনা ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
মরুর বুকে যাদুর শহর বানাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ!