বুয়েটে ক্যাম্পাসে রাজনীতি বিরোধী আন্দলোনরত শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র শঙ্কায় আছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ কারণেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল সাতটায় অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলেও তারা অনুপস্থিত ছিল।
রোববার বিকালে বুয়েটের রেজিস্টার বিল্ডিংয়ের সামনে সংবাদ সম্মেলন শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।
এসময় শিক্ষার্থীরা জানান, ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় শনিবার রাত থেকে ক্রমাগত মাইকিং, শিক্ষার্থীদের ফোনে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানারকম গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস চায় দাবি করে শিক্ষার্থীরা বলেন, এ আন্দোলন কোনো একটি দলের বিরুদ্ধে নয়। বরং সব রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই। ছাত্ররাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাসের দাবিতে সব পরীক্ষাও বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা।
তারা বলেন, নিরাপত্তাজনিত এসব কারণে বুয়েট শিক্ষার্থীদের আজ ক্যাম্পাসে অবস্থান না নেওয়ার মানে এই নয় যে বুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ছাত্র রাজনীতিবিহীন ক্যাম্পাসের দাবি থেকে সরে এসেছে। এ দাবি বুয়েটের সব ব্যাচের সব শিক্ষার্থীর।
আজ ২০ ব্যাচের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা থেকে একজন ছাড়া বাকি সবাই বিরত ছিল জানিয়ে তারা বলেন, ১২১৫ জন ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ১২১৪ জনই পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। এ থেকেই শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত নৈতিক অবস্থান ক্যাম্পাসে পুনরায় ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে কতটুকু সুদৃঢ় তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। তবে সব পরীক্ষা রিসিডিউল করার আহবান জানানো হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের এবং স্বাধীনতার চেতনায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয়ী। ক্যাম্পাসে রাজনীতি বন্ধ মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাওয়া নয়। প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণে বুযেটের শিক্ষার্থীরাও পিছিয়ে নেই।
ক্যাম্পাসে শিবির ও হিজবুত তাহরীরর কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তারা বলেন, হিজবুত তাহরীরর ই-মেইল পাবার পরই ভিসিকে জানানো হয় এবং তদন্তের অনুরোধ জানানো হয়। এই সব সংগঠনের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে তাদের বহিষ্কারের জন্যেও আন্দোলন হবে।
শিবিরের বিষয়ে তারা বলেন, যেসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিবিরের কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ আসছে তাদের ঘটনাটি বুয়েটের বাইরে হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তবে অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাদের সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানাই।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বুয়েটের আভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে আমাদের স্বাতন্ত্র্যকে স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাওয়াকে কখনোই সম্মান করেনি। তারা বুয়েটের শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খা ‘একটি রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাসে’র বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, আবরার ফাহাদ হত্যার পর বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও বুধবার মধ্যরাতে বহিরাগত কিছু নেতা–কর্মী ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের প্রবেশ ও তাদের কর্মসূচি বন্ধে বিক্ষোভ করছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।
রাজনৈতিক নেতাদের রাতে বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশে সহায়তাকারী শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কেন ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে দিচ্ছে তার ব্যাখ্যা চান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
রাজনীতি চালু করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্যোগ নিতে হবে: বুয়েট উপাচার্য
এবার ৩৪ বুয়েট শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের আল্টিমেটাম