বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনে যেমন পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন করে হিসাবের হালখাতা খোলা হয়, তেমনি করে শনিবার রাতে ইরানের অবিস্মরণীয় ড্রোন ও মিসাইল আক্রমণের পর নতুন একটি হিসাবের খাতা খুলতে হয়েছে বিশ্বের এক নম্বরের দুষ্ট রাষ্ট্র ইসরাইল।
এতো দিন ইসরাইলের সমর হালখাতার পাতাগুলো ভারি ছিলো ফিলিস্তিনিদের ওপর তাদের হত্যাযজ্ঞের হিসাব দিয়ে। এবার সেখানে তাদেরকে খুলতে হলো হিসাবের নতুন খাতা। নিজ ভূখন্ডে ইরানের প্রথম আক্রমণ দেখার পর এখনো পুরোপুরি ধাতস্থ হতে পারেনি মুসলিম হত্যাকারী দেশটি।
তেল আবির কল্পনাও করেনি দামেস্কে ইরানি কননস্যুলেটে হামলার জবাব এভাবে দেবে তেহরান। হাজার মাইল ধূর থেকে ইসরাইলের আখাশ লক্ষ্য করে ভাসিয়ে দেয় তিনশ ড্রোন ও মিসাইল। কয়েক ঘন্টার যাত্রা শেষে যখন সেগুলো সত্যি সত্যিই ইসরাইলের আকাশে উড়ে গেলো তখন অবাক তাকিয়ে রয় বিশ্ব।

ইসরাইলের দাবি ইরানের বেশিরভাগ ড্রোন ও মিসাইলকে আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। আর ইরান বলছে, তারা যা করতে চেয়েছিলো সেটুকু তাদের পুরোটাই অর্জিত হয়েছে। কথায় বলে, চোরের মায়ের বড় গলা। ইসরাইলি সেনা কর্তারা ইরানের হামলা রুখে দেয়ার কথা বললেও, তাদের ক্ষতির হিসাবটাও বেশ বড়।
তেল আবিবের হিসাবে, নিজ ভূখণ্ডে ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল হামলা ঠেকাতে পাঁচ বিলিয়ন ইসরাইলি মুদ্রা শেকেলস খরচ করেছে ইসরাইল। ডলারের মূল্যমানে যা ১.৩৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, একটি মামুলি হামলা ঠেকাতেই দেশটির গাঁট থেকে বেরিয়ে গেছে একশ’ পয়ত্রিশ মার্কিন ডলার!
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইয়াদিওজ অরওনাজের বরাতে তুর্কি সংবাদ মাধ্যম টিআরটি জানাচ্ছে, দেশটির সেনা প্রধানের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল র্যাম আমিনাশ হিসাব কষে দেখেছেন, ইরানের হামলা ঠেকাতে আনুমানিক প্রতিরক্ষা ব্যয় ১৩৫ কোটি মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, ইরানি ব্যালাস্টিক মিসাইল ঠেকাতে ব্যবহার করা একটি 'অ্যারো' ক্ষেপণাস্ত্রের দাম সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার। আর প্রতিটি 'ম্যাজিক ওয়ান্ড' ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম এক মিলিয়ন ডলার। এছাড়া ইরানি ড্রোন প্রতিরোধ করার জন্য বিমান থেকে নিক্ষেপ করা গোলার দাম রয়েছে।
ইসরাইলিরা যখন এমন হিসাবে দিচ্ছে, তখন স্বাভাবতই প্রশ্ন ওঠছে কত টাকার হামলা ঠেকাতে এতো বিপুল অর্থ বেরিয়ে গেলো ইসরাইলের রাজকোষ থেকে। ইরানের দাবি, তারা যেসব ড্রোন ও মিসাইল ছুঁড়েছে সেসব খুবই সাধারণ মানের এবং সস্তা। বিশ্লেষকদের মতে, সব মিলিয়ে ইরানের খবর এক মিলিয়ন ডলারের কম।

প্রায় দেড়শ’ কোটি ডলার দিয়ে দশ লাখি হামলা ঠেকিয়েছে তেল আবিব। আর এতেই নিজেদের জয় দাবি করছে তারা। দেশটির সেনা মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগ্যারি জানান, ইরান থেকে ইসরাইলে প্রায় ৩৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। এগুলোর বেশিভাগই ভূপাতিত করা হয়েছে।
তিনি নিশ্চিত করেন, ইসরাইলের দিকে আসা ৯৯ ভাগ হুমকিই প্রতিরোধ করা হয়েছে। আর নেভাতিম বিমান ঘাঁটিতে সামান্য ক্ষতি হয়েছে। ৩০টি ক্রুজ মিসাইলের ২৫টিই প্রতিরোধ করা হয়েছে, ১২০টি মিসাইলের মাত্র কয়েকটি আঘাত হানতে পেরেছে। ইসরাইলি বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ধ্বংস করার ইরানি চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
