স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না রাখার সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের। দলের আন্তঃকোন্দল এড়িয়ে স্থানীয় পর্যায়ে যোগ্য নেতাদের সুযোগ দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।
তবে দলীয় প্রতীকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগের শরিকদল ও জাতীয় পার্টি। আর বরাবরের মতো এ নির্বাচনও বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।
২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আইন সংশোধন করে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পদ্ধতি চালু করেছিলো আওয়ামী লীগ। এরপরের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে দল একজনকে মনোনয়ন দিলেও শুরু হয়ে যায় বিদ্রোহী প্রার্থী হবার হিড়িক। তৈরি হয় আন্তঃকোন্দল ও সংঘাতের।
দলীয় সহিংসতা ঠেকাতে এবার স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে প্রতীক না দেয়ার সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের। তারপরও বিভাগীয় নেতাদের বৈঠকে দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের হুঁশিয়ারি বলছে, দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগকেও কৌশলগত অবস্থান নিতে হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ এবার দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দিচ্ছে না। দল ও দলের বাইরে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি যাতে নির্বাচিত হয়- সেটাই আওয়ামী লীগ প্রত্যাশা করে।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বলছেন দলের কেউ কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে কেউ যদি যুক্ত হয় তবে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্তা নেওয়া হবে।

জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের শরিকরা দলীয় প্রতীকেই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাসদ সবসময় অংশ নিয়েছে, এবারও করবে।
সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রতীক না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে বিএনপি এই নির্বাচনও বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

দলটির আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল বলেন, প্রতীকবিহীন বলেন আর প্রতীকযুক্ত; বিএনপি বলেন আর অন্য সংগঠন বলেন, দেশের মানুষের যেখানে আকাঙ্ক্ষা নেই, আগ্রহ নেই; রাষ্ট্রকাঠামোর ভোটারের লাইন হওয়ার জন্য যেদিন হবে সেদিন বিএনপি নির্বাচনে যাবে।
দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন না দিলেও উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক ভোট সম্ভব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এলাকায় যারাই মনে করেন জনপ্রিয়তা আছে বলে মনে করছেন তারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তাদের মধ্যে যিনি জনপ্রিয় তিনি নির্বাচিত হয়ে আসবেন। আমার মনে হয় এটি স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ।

গত ২১ মার্চ প্রথম ধাপের উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুসারে আগামী ৮ মে প্রথম ধাপে ১৫২ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিলো ১৫ এপ্রিল, যাচাই-বাছাই হয়েছে ১৭ এপ্রিল এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ২২ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ২৩ এপ্রিল।
তফসিল অনুযায়ী দ্বিতীয় ধাপের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২১ এপ্রিল, মনোনয়নপত্র বাছাই ২৩ এপ্রিল, আপিল গ্রহণ ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৩০ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। এ ধাপে ১৬১ উপজেলায় আগামী ২১ মে ভোট হবে।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথমধাপে দেড়শটি উপজেলার তিনটি পদের বিপরীতে এক হাজার ৮৯১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬৯৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭২৪ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৭১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
১১২টি উপজেলা পরিষদে ২৯ মে তৃতীয় ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গেলো জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয়নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হবার সুযোগ দেয়ায় রেকর্ড সংখ্যক প্রার্থী বিজয়ী হন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একই ফলাফল আসে কি না তা দেখার অপেক্ষা।
উপজেলা নির্বাচনে কৌশলের কারণ জানালো আওয়ামী লীগ