রাজনীতি চর্চার সঙ্গে সংস্কৃতি চর্চার যোগাযোগ থাকলে যেকোনো অপসংস্কৃতি মোকাবেলা করা সম্ভব বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।
যেকোন সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে খেয়াল রাখা দরকার, যেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দুর্বল না হয়ে যায়।
শনিবার রাজধানীতে সম্পাদকদের শীর্ষ সংগঠন এডিটরস গিল্ডের ‘সংবিধিবদ্ধ সংস্কৃতি চর্চা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তারা।
বাঙালির আছে হাজার বছরের ঐহিত্য। ছায়ানটের বর্ষবরণের আয়োজন, চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখি মেলাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপন হয়ে আসছে বাংলা নববর্ষ। তবে সম্প্রতি নির্দিষ্ট সময় বেধে এবং ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে যেভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হচ্ছে, তাতে শৃঙ্খলিত হচ্ছে সংস্কৃতি। গোলটেবিল আলোচনায় এমন মত দেন বিশিষ্টজনেরা।
গোলটেবিল আলোচনায় উঠে আসে এখন গ্রামবাংলায় লোকজ উৎসব বন্ধ করে চলছে ধর্মের আগ্রাসনের প্রসঙ্গ। সংস্কৃতির প্রচার বন্ধ করে, নানা নিষেধাজ্ঞা দেয়া হচ্ছে বলেও মনে করেন বক্তারা।
সংস্কৃতিজনরা বলেন, কিছু উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রীয়ভাবে না করে সামাজিকভাবে উদযাপনের ব্যাপারে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। একইসাথে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে তারা বলেন, রাজনীতির সাথে সংস্কৃতির যোগ থাকতে হবে তাহলে অপসংস্কৃতি দূর করা সম্ভব।
দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে এটি তৃণমূল পর্যায় শুরু করতে হবে। সেই সাথে নতুন প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কথাও বলেন বিশিষ্টজনেরা।
এডিটরস গিল্ডের সভাপতি ও গোলটেবিল আলোচনার সঞ্চালক মোজাম্মেল বাবু বলেন, আমাদের এ প্রতিবাদ এবং সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার যে কার্যক্রমে আমরা ছিলাম, আমাদের রাষ্ট্র ক্ষমতা আস্বাদের কিছু নেই। সমরা সবাই নিজেদের সেই কাজেই ফেরত যাব। এটাই এবার বৈশাখে আমাদের প্রতিজ্ঞা, আমাদের চেতনা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন সংস্কৃতিজন রামেন্দু মজুমদার, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী, সংগীতশিল্পী অধ্যাপক নাশিদ কামাল, পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবেদ খান, সংস্কৃতিজন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারা যাকের, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এবং শিল্পী হাশেম খান।
