উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার না করতে এমপি-মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
যেসব জনপ্রতিনিধি দলীয় নির্দেশনা না মেনে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী করছেন তাদের সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা নিকটাত্মীয়দের প্রার্থী করছেন, ভবিষ্যতে তাদের পরিবার নিয়েই থাকতে হবে। জনগণের ভোট তারা পাবেন না।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় দলীয়প্রধান এই সতর্কবার্তা দেন বলে বৈঠকে অংশ নেয়া কয়েকজন সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।
সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে সংসদ নেতা শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে সর ধরনের সহায়তা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, দলের এমপিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উপজেলায় এমপিদের স্বজনদের ভোটে থাকা খারাপ। এটা করা ঠিক না। তাহলে নেতাকর্মীরা কী করবে। নেতাকর্মীদের তো জায়গার প্রয়োজন, সম্মানের প্রয়োজন। যারা এটা করছে তা খারাপ হবে।
এক সংসদ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, দলটা হলো সবার। সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। দলকে কুক্ষিগত করা যাবে না। এমপিদের স্বজনদের ভোটে দাঁড়ানো ভালো কিছু না। এরকম হলে ভবিষ্যতে ভোট পাবে না। তাদের পরিবার নিয়েই থাকতে হবে। জনগণ ভোট দেবে না।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর এবারের ভোট সবচেয়ে ভালো হয়েছে। উপজেলায়ও এরকম ভোট চাই। উৎসবমুখর ভোট হলেও ভালো। আমাদের স্লোগান হচ্ছে-আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো। সেটাই আমরা চাই।
সংসদে স্বতন্ত্র এমপিদের বিষয়েও কথা বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। দলীয় এমপিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার অনুমতি নিয়ে অনেকে স্বতন্ত্র ভোট করেছেন। তাদের সঙ্গে ঝামেলা করা যাবে না। কোথাও কোথাও স্বতন্ত্ররাও ঝামেলা করছেন-আমি তাদের সঙ্গে বসবো।
বৈঠকে একজন এমপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপজেলায় একক প্রার্থী ঠিক করে দেয়ার প্রস্তাব করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, দলে অনৈক্য হচ্ছে। এটা খুব খারাপ হচ্ছে। কাউকে একক প্রার্থী করলে সমস্যা হবে না। প্রশাসনের লোকেরা বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী দাঁড় করাচ্ছে। তারা আমাদের গুরুত্ব দিতে চায় না।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি। সেটা কেন হবে। তোমরা যদি তাদের কাছে যাও, কোনো দুর্বলতা থাকে, তাহলে তো তারা তোমাদের পেয়ে বসবে। তা না হলে তোমাদের প্রশাসন কেন গুরুত্ব দেবে না।
সভায় অন্যদের মধ্যে মো. মোহিত উর রহমান, ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান, দ্রুপদী দেবী আগারওয়াল, ফারজানা সুমি, অনিমা মুক্তি গোমেজ বক্তব্য রাখেন।
