বাড়ির আঙিনার বিভিন্ন গাছে বাসা বেধেছে বক, সারস, পানকৌড়ি, রাতচরাসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি। আর পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখর পুরো এলাকা।
এমন দৃশ্যের দেখা মেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের সাগরতলা গ্রামের জাহাঙ্গীর মাস্টারের বাড়িতে। ১৯৮৪ সাল থেকেই অতিথি পাখিরা তার বাড়িতে আসতে শুরু করে। আর প্রতি বছর এ সময়টায় গাছের ডালে বাসা বেঁধে বংশবিস্তার করে। বছরের শেষের দিকে চলে যায় অজানা গন্তব্যে।
অতিথি পাখিদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার জাহাঙ্গীর মাস্টারের বাড়ি। বিভিন্ন সময়ে এসব অতিথি পাখি শিকারীদের খপ্পরে পরলেও প্রায় ৪০ বছর ধরে মায়া-মমতা আর ভালোবাসা দিয়ে তাদের আগলে রেখেছেন বাড়ির লোকজন।
জাহাঙ্গীর মাস্টার একাত্তরকে বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই সময় আমি স্কুল আর এই পাখি নিয়েই থাকতাম। এরপরে আমার পুরেটা সময়ই আমি পাখি নিয়ে কাটাচ্ছি।

জাহাঙ্গীর মাস্টার জানান, ২০০৮ সালে চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর তার বেশিরভাগ সময় কেটেছে এই পাখিদের সাথেই। এখন আশপাশের মানুষ এসেও পাখিদের সাথে সময় কাটান।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, এখানে অনেক ধরনের পাখি আসে। এসব পাখি জাহাঙ্গীর স্যারই দেখাশোনা করেন। ওনার বাড়ির চারপাশে যত গাছ আছে সব গাছেই পাখিদের বসসবাস।
আরেক বাসিন্দা বলেন, পাখিদের সঙ্গে তার একটা বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। পাখিরা তার ভাষা বুঝতে পারে। তিনি যদি কোনো কিছু বলেন তবে পাখিরা সেটা শোনে।
তাপপ্রবাহ রোধসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আহসান শাহরিয়ার।
এই শিক্ষক বলেন, আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাখি অত্যন্ত জরুরি। আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে এরকম অভয়াশ্রম গড়ে তোলা দরকার।
জাহাঙ্গীর মাস্টারের বাড়িতে বর্তমানে দুই হাজারেরও বেশি পাখি আশ্রয় নিয়েছে। পাখিদের জন্য এমন নতুন নতুন আরও অভয়াশ্রম গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
