দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ও লকডাউন চলমান থাকায় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আগামী ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিলেট-৩ আসনের সংসদ উপনির্বাচন ৫ আগস্ট পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৬ জুলাই) বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।
সোমবার সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ছয় আইনজীবী এবং সালেহ আহমদ ও ৭ জন ভোটারসহ মোট ১৩ জন পিটিশনারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এই রিট দায়ের করেন। রিটে বিবাদী করা হয় প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) সংশ্লিষ্টদের।
এর আগে রোববার (২৫ জুলাই) ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদাকে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
আরও পড়ুন: করোনা ভাইরাস: ২৪ ঘণ্টায় খুলনার ৫ হাসপাতালে ১৮ মৃত্যু
নেটিশে বলা হয়, গত ১১ মার্চ সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট-৩ আসনটি শূন্য হয়। ১৫ মার্চ নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই আসন শূন্য ঘোষণা করে। ২৯ এপ্রিল নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন বলা হয়, সংবিধান অনুযায়ী ৮ জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। কিন্তু দৈবদুর্বিপাকের কারণে তা সম্ভব না হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী আরো ৯০ দিন সময় বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পায় নির্বাচন কমিশন।
এরপর গত ২ জুন ওই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ তফসিলে ১৪ জুলাই ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়। পরে ১৫ জুন ইসি তারিখ পরিবর্তন করে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে ২৮ জুলাই।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, দৈবদুর্বিপাকের কারণে সংবিধান অনুযায়ী সিলেটের এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তাই ২৮ জুলাই অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচন স্থগিত করা যাবে না-এ বক্তব্য আইনের সঠিক ব্যাখ্যা নয়। ইসির উচিত চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে ‘লকডাউনে’র সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজন না করা এবং ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্য যে কোনো সময়ে ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা। তিন লাখ ৫২ হাজার ভোটারের এ নির্বাচন অনুষ্ঠান সরকারের বর্তমান ‘লকডাউন’ নীতিরও বিরোধী।
একাত্তর/এসজে
