সিলেটে সুরমা নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে মহানগরীর কয়েকটি এলাকা। সাতটি উপজেলায় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়েছেন পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে চালু হয়েছে ৫৪৭টি আশ্রয়কেন্দ্র।
শুক্রবার সরেজমিন, সিলেটের ফায়ার সার্ভিস অফিস এখন দেড় ফুট পানির নিচে। মালামাল নিয়ে চিন্তিত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তরা। তারা বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে প্রচণ্ডভাবে পানি বাড়ছে। এখানে আমাদের ব্যারাকেই প্রায় উঠে এসেছে। এমন অবস্থায় স্টেশনের মালামাল, ব্যক্তি জিনিসপত্র সারানো, পাশাপাশি অপারেশন চালানো, সব মিলিয়ে বেশ কষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সুরমা নদীর পানি বাড়ায় এরি মধ্যে পানি উঠেছে নগরীরর তালতলা, মেন্দিবাগ, মাছিমপুর,ছড়ার পাড়, সোবহানিঘাটসহ বেশ কিছু এলাকায়।
স্থানীয়া বলেন, পানি এখন আমাদের ঘরে। তা প্রায় হাঁটু ছাড়িয়ে গেছে। বিছানার ওপর টেবিল রেখে তার ওপর মালপত্র রাখা হয়েছে। অন্যের বাসায় গিয়ে কোনো রকমে আলু সেদ্ধ দিয়ে ভাত রান্না করে খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। নিচের তলায় পানি ওঠায় মালপত্র নিয়ে অনেকেই ওপর তলায় তা স্থানান্তরও করছেন। এমন অবস্থাকে চরম দুর্ভোগ বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বহু মানুষ ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয়কেন্দ্রে।

আশ্রয়কেন্দ্রে এক বৃদ্ধা বলেন, বিদ্যুৎ, পানি নেই। যেখানে আছি সেই ঘরও ভাঙা। কী যে কষ্ট হচ্ছে তা আর বলার কিছু নেই।
এছাড়া শহরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দোকানপাট সব বন্ধ রাখতে হয়েছে। যে কষ্টে আছি তা দেখার কেউ নেই।
সিলেটের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাশ বলেন, সিলেটের আবহাওয়া এখন খুবই ভালো। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি না হলে এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যার পানি কমবে।
এরই মধ্যে জেলায় মোট ৫৪৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে চালু করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম।
