ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কম হওয়ায় সিলেটের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে জেলার প্রধান এই দুই নদীর পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট সদর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি এখন অপরিবর্তিত আছে। এখনও তালিয়ে আছে উপজেলারগুলোর ১১০টি গ্রাম।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ১৩.৫৫ সেন্টিমিটার আর সিলেট শহরে বিপদসীমার ১০.৮৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অন্য দিকে গোয়াইনঘাট-কোম্পানিগঞ্জের, সারি, গোয়াইন, পিয়াইন ও ডাউকি নদীর পানি বিপদসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় দুটি উপজেলার বিভিন্ন বাসাবাড়ি সড়ক থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।
তবে অপরিবর্তিত আছে সিলেট শহরের বন্যা পরিস্থিতি। বৃষ্টির পানি আর নদীর পানি এক হয়ে সিলেট শহরের তালতলা, উপশহর, সোবহানিঘাট, তেরোরতন, ছড়ারপার, মাছিমপুর, মেন্দিবাগসহ বেশ কয়েকটি এলাকার সড়ক, বাসাবাড়ি এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে। বন্ধ আছে অনেক এলাকার দোকানপাট।
পাউবো বলছে, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জে ও জৈন্তাপুর উপজেলায় পানি অনেকটা কমেছে।

অন্যদিকে সিলেট সদর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। এখনও পানির নিচে তলিয়ে আছে উপজেলাগুলোর ১১০টি গ্রাম।
সিলেট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড, জেলার দুটি পৌরসভাসহ জেলার ৬৬টি ইউনিয়নের ছয় লাখ ৯ হাজার ৭৩৩ জন মানুষ বন্যাকবলিত হয়েছেন। জেলায় ৫৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে আছেন তিন হাজার ৩৪২ জন। জেলার আটটি উপজেলার ৭৮১টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
