খতনা করাতে গিয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র আহনাফ তাহমিদের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করে মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত করে তিন মাসের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছেন আদালত।
সোমবার এ সংক্রান্ত বিষয়ে দায়ের করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। রিটকারির আইনজীবী রফিকুল ইসলাম মেহেদী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান।
একই সঙ্গে এ ঘটনায় রুল জারি করেছেন আদালত, রুলে লাইসেন্সবিহীন অবৈধ জে এস হাসপাতাল কেন বন্ধ করা হবে না, অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগকারী ও খতনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, আহনাফ তাহমিদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ এসব আদেশ দেন।
আইনজীবীরা জানান, খতনা করার সময় তাকে উচ্চমাত্রায় চেতনানাশক করা হলে এই শিশু ডীপ কোমায় চলে যায়। এর মধ্যেই খতনা করে ডাক্তার চলে যায়। হাসপাতালে কোন আইসিইউ ছিল না। শিশুকে এরপর বেলুনের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হলে তার ফুসফুস ড্যামেজ হয়ে যায় এবং তখনই সে মৃত্যুবরণ করে।
তারা আরও জানান, কেবল অবহেলাজনিত কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়নি। হাসপাতাল এবং ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসা, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত চেতনানাশক প্রয়োগ, হাসপাতালে অক্সিজেন এবং আইসিইউ না থাকা, বেলুনের মাধ্যমে অক্সিজেন প্রয়োগ করে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ করে ফেলা- এসব ঘটনা কেবল অবহেলার মধ্যে পড়ে না। দণ্ডবিধির ২৯৯ ধারা মতে এর শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
এর আগে ঘটনার রাতেই (২০ ফেব্রুয়ারি) হাতিরঝিল থানায় শিশুটির বাবা মামলা করেন। চিকিৎসকের অবহেলায় তার সন্তানের মৃত্যুর অভিযোগ করেন তিনি। হাতিরঝিল থানায় করা এ মামলায় হাসপাতালটির মালিক মোক্তাদির, অবেদনবিদ মাহবুব ও অস্ত্রোপচারবিশেষজ্ঞ ইশতিয়াক আজাদকে আসামি করা হয়েছে।
সাবেক ছাত্রনেতা শফি আহমেদ আর নেই