তারেককে ফিরিয়ে আনতে জোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০৬:১৩ পিএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা ও আইনি কার্যক্রম চলছে।

বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

সংসদ নেতা বলেন, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। তবে সব জটিলতা আইনি প্রক্রিয়াতেই নিরসন করে এই অপরাধীকে দেশে নিয়ে আসা ও তার প্রাপ্য সাজার মুখোমুখি করার বিষয়ে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আশা করা যায়, এই প্রক্রিয়ায় ফলাফল আমরা অচিরেই দেখতে সক্ষম হবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, মানি লন্ডারিংসহ দুর্নীতির একাধিক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে। যুক্তরাজ্য থেকে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও কিছু আইনগত জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করে যাচ্ছে।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানসহ ১৫ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। বিদেশে পলাতক আসামি মাওলানা তাজউদ্দীন, মো. হারিছ চৌধরী (গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় তিনি বাংলাদেশের মাটিতে মারা গেছেন) ও রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবুদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা আছে। এছাড়াও পলাতক আসামিরা যেসব দেশে অবস্থান করছে সেসব দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে তিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানকে একাধিক চিঠি দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে খুনিদের অবস্থানের বিষয়ে আইনগত জটিলতা থাকায় এ বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বর্তমানে প্রচলিত কূটনীতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার লক্ষ্যে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করার বিষয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের মধ্যে মেজর (অব.) নূর চৌধুরী বর্তমানে সপরিবারে কানাডায়, আব্দুর রশিদ ও মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল ইসলাম ডালিম পাকিস্তান বা লিবিয়ায়, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) রাশেদ চৌধুরী আমেরিকা এবং রিসালদার মোসলেহ উদ্দিন খান ভারতে অবস্থান করছে বলে জানা যায়। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আজিজ পাশা জিম্বাবুয়ে অবস্থানকালে মারা যান বলে জানা যায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে ফাঁসির আদেশপ্রাপ্ত ১২ আসামির মধ্যে ছয় জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

‘জিয়া রক্তাক্ত হাতেই খাবার খেতে বসতেন’

রাজশাহী-৩ আসনের মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, খুনি জিয়া তো রক্তাক্ত হাতেই খাবার খেতে বসতেন এবং খেতে খেতেই ফাঁসির আদেশে স্বাক্ষর করতেন। জিয়ার নির্দেশে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা স্বাধীন দেশের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের ছেড়ে দিয়ে সে প্রমাণ করেছে যে পরাজিত শক্তির দালাল ছিল, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করতো না। জিয়ার সাড়ে পাঁচ বছরের শাসন আমলে ২১টি ক্যু-পাল্টা ক্যু হয়। লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাহেরকে সে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছিলো, সার্বিক প্রেক্ষাপটে জিয়া অত্যন্ত হিংস্র ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো।

অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের ‘বাংলাদেশ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে তিনি লিখেছেন, সরকারি হিসাবে জিয়া ১৯৭৭ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র দুই মাসের মধ্যে এক হাজার ১৪৩ জন সৈনিককে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছিলো।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর জিয়াউর রহমান সংবিধান লঙ্ঘন করে একাধারে সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতির পদ দখল করে। ইতিহাসের এই ঘৃণ্যতম হত্যাকাণ্ডে জিয়ার সংশ্লিষ্টতা ছিলো। খুনি ফারুক-রশিদরা আগে থেকেই জাতির পিতাকে হত্যার পরিকল্পনা করে, যেটা জিয়া জানতো। জিয়া সেনা ছাউনিতে বসে দলছুট রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিএনপি গঠন করে। সে যেমন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, তেমনি অবৈধভাবে বিএনপি সৃষ্টি করে।

কেএসএইচ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম করেছে। একইভাবে আগামী দিনে...
দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকারি কর্মকর্তাদের ৯টা-৫টার বাঁধা ধরা নিয়মের বাইরে গিয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে শিশুদের কাছে বই পৌঁছে দেওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখতে...
দেশজুড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করা ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষের মূল্যবান জীবন রক্ষায় সর্বস্তরের নাগরিক ও প্রত্যেক পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে নিজের ঘরবাড়ি ও...
আবুধাবিতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচের ২২ গজে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না ঠিকই, কিন্তু পুরো ম্যাচের প্রতিটি বলে জড়িয়ে ছিল তাওহিদ হৃদয়দের ভাগ্য! জিম্বাবুয়ে জিতলে ফাইনালের...
শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ প্রহরে এসে মহানবমী আমাদের সামনে নিয়ে এসেছে আনন্দ ও বিদায়বেদনার এক গভীর মিশ্র অনুভূতি। শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা আর ঢাকের বাদ্যে যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, নবমীতে এসে তার...
সুন্দরবনের গহীন জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে আবার হানা দিয়েছে বনের রাজা! ভোলা নদীর তীরে এক মৃত গরুর দেহাবশেষ আর কাদায় বিশাল বিশাল বাঘের তাজা পায়ের ছাপ- ব্যস, এই দেখেই সুন্দরবন সংলগ্ন তিন গ্রামের মানুষের...
ব্যক্তিগত জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত আর নিত্যনতুন বিতর্কে সংবাদের শিরোনামে থাকা যেন চিত্রনায়িকা পরীমনির গা-সওয়া বিষয়। বিতর্ক আর পরীমনি- দুই যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! তবে এবার তিনি আলোচনার কেন্দ্রে কোনো...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর