নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুরে সরকারি জমি দখল, প্রভাব বিস্তার কিংবা নামমাত্র ইজারা নিয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে নতুন করে কাউকে ‘মাফিয়া ডন’ হতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
তিনি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি সম্পদ কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ সুনিশ্চিত করা এবং আইনি প্রক্রিয়ায় উদ্ধারকৃত জমিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সোমবার বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন এক পুকুর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার এসব কথা বলেন।
নাজিরপুর বাজারের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযান ও সরকারি জমি উদ্ধার প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বহু স্থানীয় ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যা অনস্বীকার্য। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা আগে ছিলেন স্রেফ ভাড়াটিয়া, এখন যাতে আপনারা জমির মালিকে পরিণত হতে পারেন, আমরা সেই বন্দোবস্তই করছি। প্রকৃত ব্যবসায়ীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে দ্রুত জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনের শাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে কায়সার কামাল কঠোর কণ্ঠে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অতীতে এক বছরের ইজারা নিয়ে সরকারি জায়গায় তিন-চারতলা ভবন নির্মাণ করে অট্টালিকা বানিয়ে প্রভাব খাটানোর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। ভবিষ্যতে এমন অবৈধ সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না। নাজিরপুরকে কোনো ব্যক্তিবিশেষের আয়ের উৎস না বানিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমতাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে দলমত-নির্বিশেষে সবাই সমান সুবিধা পাবেন।
নাজিরপুরকে কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলার অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান ডেপুটি স্পিকার। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকারের একটি বড় পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারা দেশের ছয়টি বিভাগে একটি করে আধুনিক ও উন্নতমানের ‘হেলথ হাব’ বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি কেন্দ্র নাজিরপুরে স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উক্ত পুকুর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
