ব্যক্তিগত জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত আর নিত্যনতুন বিতর্কে সংবাদের শিরোনামে থাকা যেন চিত্রনায়িকা পরীমনির গা-সওয়া বিষয়। বিতর্ক আর পরীমনি- দুই যেন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ! তবে এবার তিনি আলোচনার কেন্দ্রে কোনো প্রেমের গল্প বা ব্যক্তিগত কোন্দল নিয়ে নন, বরং বলির পাঁঠা হয়েছেন এক কুচক্রী মহলের নোংরা এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের।
সম্প্রতি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা পরীমনির একটি ‘আপত্তিকর’ ডিপফেক ভিডিও নেটপাড়ায় ভাইরাল করে দেওয়া হয়। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই ক্ষান্ত হয়নি চক্রটি, দিনকয়েক আগে একটি স্বনামধন্য স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করেও ছড়িয়ে দেওয়া হয় সেই বিতর্কিত ক্লিপ। বিষয়টি নিয়ে নেট দুনিয়ায় ঝড় উঠতেই চটেছেন পরী। ফেসবুকে লাইভে এসে অপরাধীদের মুখোশ খুলে দিয়ে কড়া জবাব দেন তিনি। তাঁর এই প্রতিবাদী ও সাহসী রূপ দেখে ভক্ত-অনুরাগীরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও পরীমনি নিজের চেনা ছন্দেই উত্তর দিয়েছেন।

সোমবার ঢাকার একটি শোরুম উদ্বোধনে ফিতা কাটতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার মুখোমুখি হন পরীমনি। জীবনে একের পর এক ঝড়-ঝাপটা ও ঝামেলা আসা নিয়ে হাসিমুখে রূপালী পর্দার এই নায়িকা বলেন, আমার কপালে মনে হয় এটাই লেখা, সারাজীবন ঝামেলা হবে, ঝামেলা নিয়েই যাব! আমি তো এটা মেনেই নিয়েছি। এখন তো বেশ ভালোই লাগে, পুরাটাই এনজয় করি!’
তবে ব্যক্তিগতভাবে ঝামেলার সঙ্গে বসবাস করলেও এআই প্রযুক্তির এমন নোংরা অপব্যবহার নিয়ে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই চিত্রতারকা। বিষয়টির সেনসিটিভিটি উল্লেখ করে পরী বলেন, বিষয়টা মারাত্মক সেনসিটিভ। আমার মতো শক্ত মানুষের তো প্রথম তিন-চার দিন এগুলো গায়েই লাগেনি, পাত্তাই দিইনি! কিন্তু যখন দেখলাম জল অনেক দূর গড়াচ্ছে আর বিষয়টাকে এভয়েড করা যাচ্ছে না, তখন সোচ্চার হতে বাধ্য হলাম।

সাধারণ নারীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পরীমনি স্মরণ করিয়ে দেন এর ভয়াবহ পরিণতির কথা। তিনি স্পষ্ট কণ্ঠে বলেন, আমার জায়গায় অন্য কোনো সাধারণ মেয়ে হলে তো এতক্ষণে লোকলজ্জার ভয়ে সুইসাইডই করে বসত! এমন ঘটনার পর আত্মহত্যার নিউজ অহরহই আমরা দেখি। তাই এআই দিয়ে নারীদের এমন চরিত্রহননের বিরুদ্ধে সবার একযোগে সোচ্চার হওয়াটা এখন সময়ের দাবি।
লাইভে এসে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে পরীর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে নতুন করে শক্তি পাচ্ছেন জানিয়ে পরীমনি যোগ করেন, সবাই যখন আমার এই সাহসের প্রশংসা করে, তখন বুকটা গর্বে ভরে যায়। মনে হয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠে আমি একদম সঠিক পথেই আছি।
