সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করে ঘোষিত ‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে একযোগে অনির্দিষ্টকালের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে নেমে পড়েছেন দেশের স্বায়ত্তশাসিত সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এতে বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষা কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে তারা।
কর্মবিরতিতে শামিল হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটসহ অন্যান্য সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা। তাদের দাবি তিনটা। এগুলো হলো- প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার, সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তি এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন।
এর বাইরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, শুধু প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হোক। আর সর্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বাদ না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে ঘোষণা শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যয় স্কিমের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকে এর বিরুদ্ধে সরব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। এতদিন কর্মবিরতি পালিত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরীক্ষাগুলো এর আওতার বাইরে ছিল।
কিন্তু সোমবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষাসহ দাপ্তরিক সব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকছেন শিক্ষকরা।

রোববারই সংবাদ সম্মেলন করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক সমিতির মোর্চা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন। গতকালই তারা জানিয়ে দেয়, দাবি আদায় না হলে সোমবার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির চালানো হবে।
এরপর আলাদা আলাদাভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ৩৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ৯টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সেখানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

একইসঙ্গে সোমবার দুপুর ১২টা থেকে একটা পর্যন্ত কলাভবন ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালনের কর্মসূচি তাদের। এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে শিক্ষক সমিতি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ড নিজামুল হক ভুঁইয়া জানান, আমরা সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। তারা সবাই কর্মসূচি পালন করবে।
গত মার্চে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ‘প্রত্যয় স্কিম’ নামে নতুন স্কিম যোগ করে সরকার। বলা হয়, সব স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত, সংবিধিবদ্ধ বা সমজাতীয় সংস্থা এবং তাদের অধীন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ স্কিম গ্রহণ করতে পারবেন।

এতে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে না এবং বিদ্যমান পেনশন বা আনুতোষিক সুবিধা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলেও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতারা বলছেন, এই স্কিমের মাধ্যমে সুরক্ষা বলয় নষ্ট করা হচ্ছে। পরিস্থিতি যখন নাজুক অবস্থায় চলে যায়, তখন শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মসূচি নিতে বাধ্য হয়। তাই এটি বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান তাদের।
পরীক্ষা স্থগিত
শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল পরীক্ষা স্থগিত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এক বিজ্ঞপ্তিতে কলাভবন ও কার্জন হল কেন্দ্রের পরীক্ষাগুলো বর্জন করা হয়।
কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়ে ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, বিভিন্ন কমিটির সভা বর্জন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধসহ ১০টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।
একইসঙ্গে কর্মসূচি চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল ভবনের নিচে সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
প্রত্যয় পেনশন স্কিম বাদ না হলে কর্মবিরতির হুমকি