জব্দ করার পরও আলোচিত সাদিক অ্যাগ্রোতে কীভাবে আমদানি নিষিদ্ধ ব্রাহমা গেল, সেই সন্ধানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাস্টমসে অভিযান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার দুপুরে এই অভিযান শুরু হয়। এর আগেরদিন অনৈতিক সুবিধা দেয়ার অভিযোগে সাভারের সরকারি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে অভিযান চালায় দুদক। দরপত্র জালিয়াতিসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখে দুদকের সদস্যরা।
সম্প্রতি ১৫ লাখ টাকায় বিদেশি বিটল জাতের একটি ছাগল বিক্রি নিয়ে আলোচনায় আসেন সাদিক অ্যাগ্রোর মালিক ইমরান হোসেন। ছাগলকাণ্ডের আলোচনার মধ্যেই ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুরে সাদিক অ্যাগ্রোর অবৈধ অংশ উচ্ছেদ করেছে সিটি করপোরেশন।
সাদিকের ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশের গরু আনার অভিযোগ রয়েছে। ২০২১ সালে জাল কাগজপত্র তৈরি করে ১৮টি আমেরিকান ব্রাহমা জাতের গরু দেশে আনেন ইমরান।
ব্রাহমা জাতের গরু আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দেশে মাংস উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের পর সরকার ২০১৬ সালে ব্রাহমা আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

আমদানি নিষিদ্ধ উন্নত জাতের ওই গরুগুলো বিমানবন্দরে জব্দের পর পাঠানো হয় সাভারের গো প্রজনন কেন্দ্রে। সেখান থেকে পরে সেগুলো সাদিক অ্যাগ্রোতে নিয়ে যান ইমরান। কোন প্রক্রিয়ায় নিয়ে গেলেন, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে।
কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় সরকারের এই প্রতিষ্ঠান থেকে ব্রাহমা জাতের গরুগুলো সাদিক এগ্রোকে দেওয়া হয়েছে, সেসবসহ অন্যান্য বিষয়েও খোঁজ নিচ্ছে দুদক।
করোনা মহামারির বিধিনিষেধের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা ব্রাহমা গরুগুলো বিমানবন্দরে ধরা পড়লে সেসময় গ্রহণ করতে কেউ যাননি।
পরে জানা যায়, ওই গরুগুলোর আমদানিকারক সাদিক অ্যাগ্রো লিমিটেড। তারা কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে শাহিওয়াল গরুর নাম দিয়ে ব্রাহমা আমদানি করেছিল। আর এটা করা হয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে।
সাদিককে অনৈতিক সুবিধা, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুদকের অভিযান 