কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরে দুই দিনে নাশকতাকারীদের তাণ্ডবে ৪০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বুধবার জেলা প্রশাসনের গঠিন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল ইসলাম।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার (১৮ ও ১৯ জুলাই) এই দুই দিন কোটা সংস্কারের আন্দোলনে একদল দুর্বৃত্ত ঢুকে পড়ে। এসময় তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, আওয়ামী লীগ কার্যালয়, ট্রাফিক পুলিশ বক্স, বাস কাউন্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা তেলের পাম্প, সার্বিক বাস ডিপো, পুলিশ ফাঁড়ি ও পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমিউনিটি সেন্টারে আগুন দিয়ে সব পুড়িয়ে ফেলে। তাদের আগুনে পোড়ে অন্তত ৩২টি বিলাসবহুল বাসও।
পরে এই ঘটনায় শনিবার জেলা প্রশাসন থেকে তিন সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার রহমানকে। বাকি দুই সদস্য হলেন- এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া, বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. নুর হোসেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে মঙ্গলবার রাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দেন।

মাদারীপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ছাত্রলীগ, পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয় বিভিন্ন এলাকা। নারকীয় হামলাগুলোতে অংশ নেয় বহু মানুষ। এতে রোমান বেপারী ও তাওহীদ সন্ন্যামাত নামে দুই জন মারা যায়। এছাড়া পুলিশের তাড়া খেয়ে লেকের পানিতে ডুবে এক তরুণের মৃত্যু হয়। অর্ধশত পুলিশসহ আহত হয় শতাধিক। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার মধ্যে দুই শতাধিক জনকে নামে এবং প্রায় দুই হাজার জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে টানা দুই দিন রণক্ষেত্রের পর মাদারীপুরে স্বস্তি ফিরেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় নাশকতার চিত্র, নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াত-শিবির
সেই দুই নারী জঙ্গি গ্রেপ্তার
কোটা আন্দোলন ঘিরে ছয়দিনে যা হয়েছে
রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় নজিরবিহীন তাণ্ডব