আগামী সপ্তাহে এক কোটিরও বেশি মানুষকে করোনা প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রোববার দুপুরে, রাজধানীর মহাখালীর বিসিপিএস মিলনায়তনে প্রথমবর্ষের এমবিবিএস ক্লাসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।মন্ত্রী বলেন, এই মুহুর্তে প্রান্তিক পর্যায়ে ৫০ বছর বয়সী মানুষদের করোনা শনাক্ত ও মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতে এনআইডি কার্ড ছাড়াই টিকা নেয়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ৭ আগস্ট থেকে টিকা ক্যাম্প করা হবে। এজন্য নিবন্ধন লাগবে না। ভোটার আইডিকার্ড নিয়ে কেন্দ্রে গেলেই হবে। যাদের কার্ড নেই তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়া হবে।
একদিন আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, দেশে বয়স্কদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হবে। এজন্য ৭ আগস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুই কোটি ৩৯ লাখ ডোজ টিকা আমরা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত এক কোটি ৩০ লাখ টিকা দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট এক কোটি ২১ লাখ টিকা ৮৯ হাজার টিকা একনাগাড়ে দেয়া হবে’।
গার্মেন্টস খুলে দেয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এসময় তারা স্বাস্থ্যবিধি মানেনি, এমন হতাশা জানিয়ে
মন্ত্রী জানান, এতে করোনা সংক্রমণ আরো বাড়বে। তবে জীবনের জন্য জীবিকার দরকার হয়। সরকারকে সবকিছুই ভাবতে হয়।
টিকা নিতে যা করতে হবে। ইন্টারনেট–সুবিধা অথবা প্রিন্টিংয়ের সুবিধা নেই, তারা কেন্দ্র গিয়ে এনআইডি দেখালে সেখানে নিবন্ধন করে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থার করা হয়েছে।
এতে টিকার কার্ডও আলাদা করে নিতে হবে না। কেন্দ্রেই একটি কার্ড থাকবে। সেখানে নাম-ঠিকানা, টিকার তারিখ, কোন টিকা এবং পরবর্তী টিকার তারিখ উল্লেখ থাকবে।
উল্লেখ্য, দিনে এখন চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করছেন। আর টিকা দেওয়া হচ্ছে দুই লাখ মানুষকে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। তখন বয়সসীমা ছিল ৫৫ বছর। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই নিবন্ধনের জন্য ৪০ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করে সরকার। এরপর তা আরেক ধাপ কমিয়ে ৩৫ বছর করা হয়।
এরপর ১৯ জুলাই থেকে ৩০ বছর বয়সীরাও নিবন্ধন করতে পেরেছেন। সর্বশেষ গত ২৯ জুলাই বয়সসীমা আরও কমিয়ে ২৫ বছর করা হয়। আর এখন তা ১৮ বছর করা হচ্ছে।
একাত্তর/ এনএ
