গুমের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করার ১৫ দিন পার হয়ে গেলেও এখনও তাদের কার্যক্রম দৃশ্যমান না হওয়ায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গুম পরিবারের সদস্যরা।
তারা বলেছেন, ‘আয়না ঘর’ কোথায় অবস্থিত, সেখানে আরও কোনো বন্দি আছে কি না সরকার সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না। একই সঙ্গে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘আয়না ঘরের’ তথ্য প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে তারা।
সোমবার সকালে ক্রাইম রিপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে গুম পরিবারের সদস্যরা এই দাবি জানান।
পরিবারগুলোর পক্ষে প্রধান সমন্বয়ক মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, গত ১৪ বছরে র্যাব সবচেয়ে বেশি গুমের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাই গুম পরিবার থেকে বাহিনীটির বিলুপ্ত করার দাবিও এসেছে।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি রাজনৈতিক দল এখন পদ-পদবি আর ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত। গুম পরিবারের পাশে কেউ নেই।
গুমের শিকার প্রতিটি পরিবারের জন্য মাসিক ভাতা দেওয়ার দাবিসহ গুমের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন স্বজনরা।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের কাছে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো। পরে গত ২৭ আগস্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ কমিশন গঠন করে সরকার।
এই কমিশনকে তদন্ত শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে ৪৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে কমিশন
গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান চেয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করবে কমিশন। সেই সঙ্গে যেকোনো ব্যক্তি যেন গুমের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন সেই ব্যবস্থা রাখা হবে। অর্থাৎ কমিশনের নিজস্ব তদন্তের কার্যক্রমের পাশাপাশি, ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কোনো অভিযোগ আসলে তাও বিবেচনায় নেবে কমিশন৷
তাছাড়া গুমের শিকার ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার তদন্তে নেমে নিখোঁজ ব্যক্তিরা কোথায় আছেন কিংবা তাদের সঙ্গে কী ঘটনা ঘটেছে তা জানতে তৎপর হবে কমিশন।
একটি সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ৪৫ দিনের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করা না গেলে সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন করবে কমিশন।
সূত্রটি আরও জানায়, গুমের ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়ে ‘মায়ের ডাক’ নামে একটি সংগঠন গত ১৮ আগস্ট বিভিন্ন সময় গুমের শিকার ১৫৮ ব্যক্তির একটি তালিকা প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালকের কাছে জমা দিয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের গুমবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুমের শিকার ৭৬ জনের একটি তালিকা বাংলাদেশ সরকারকে দিয়েছিল বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।
কী কী সংস্কার তা জনগণের সামনে তুলে ধরুন: ফখরুল