তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের কারখানা বন্ধ থাকায় পোশাকের কার্যাদেশ বাতিল হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি জানিয়েছেন, প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কার্যাদেশ বাতিল হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের পর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা আসিফ বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রতিদিন বসছে। গতকালও (বুধবার) আমরা ছয় জন উপদেষ্টা বসেছিলাম। গতকাল একটি বড় কোম্পানি বেতন দিতে না পারার কারণে গাজীপুর-আশুলিয়ায় অসন্তোষ হয়েছিলো। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে।
তিনি বলেন, সেখানেই বসে থেকেই আমাদের অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে কথা বলে ওই প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৯ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করেছেন। এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। সে কারণে আজকে শ্রমিক অসন্তোষটা কিছুটা কম রয়েছে।
শ্রম উপদেষ্টা বলেন, আমরা নিবিড়িভাবে মনিটর করছি। যে সমস্যাগুলো রয়েছে সেগুলো সমাধানের জন্য একটি পর্যালোচনা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, মালিকপক্ষ ও দুজন আইনজীবীও রয়েছে। এই কমিটি শ্রম ভবনে বসবে। আমরা শ্রমিক ভাইদের আহ্বান জানাব কোনো অভিযোগ থাকলে সেখানে জানানোর জন্য।
শ্রম আইনের মধ্যে যেসব সমস্যা সমাধান করা যায় সেটার উদ্যোগ নেওয়া হবে আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আশা করি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আসবে। শ্রমিকদের প্রকৃত সমস্যার সমাধান আমরা দিতে পারবো।
শ্রম কর্মসংস্থান সচিব দাবি করেছেন শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে। এ বিষয়টি কীভাবে দেখছেন- জানতে চাইলে আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এমন কিছু তথ্য পেয়েছি যেটা ওই বিষয়টিই ইঙ্গিত করে। এটা একটি সিজনাল বিজনেস। মার্কেটে যে প্রোডাক্ট যাবে সেটা তিন মাস আগেই প্রস্তুত করতে হয়। সেই অর্ডারগুলো অনেক জায়গায় বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু নির্দিষ্ট দেশের ব্যবসায়ীরা অর্ডারটা নেয়ার জন্য লবিং করছেন, উঠে পড়ে লেগেছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, একটা বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে কোনো শ্রমিক তার কারখানায় এভাবে হামলা করবে না। কারণ, কারখানা বন্ধ হয়ে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কিন্তু শ্রমিকরাই হন। তিনি জানেন কারখানা বন্ধ হলে মাস শেষে তিনি বেতনটি পাবেন না। বরং দেখেছি বেকার যুব সংঘের নামে বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে হামলার চেষ্টা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরাই তাদের প্রতিহত করেছেন।
শ্রম উপদেষ্টা বলেন, এখানে ষড়যন্ত্র যেমন আছে, শ্রমিকদের প্রকৃত দাবিও কিছু রয়েছে। কারণ, দীর্ঘ ১৬ বছর তারা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হওয়ায় তারা কথা বলার স্বাধীনতা পেয়েছে। আমরা সেটাকে সাধুবাদ জানাই।
তিনি বলেন, পদ্ধতির মাধ্যমে দাবিগুলো আমাদের কাছে আসলে তার সমাধান করব। কিন্তু কারখানার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই এমন বহিরাগত ও ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে যারা অসন্তোষ সৃষ্টি করছে ও শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে, সরকার তাদের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
