মার্কিন নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠছে প্রচারণা যুদ্ধও। আমেরিকার রাজ্য থেকে রাজ্য ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হ্যারিস। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুই প্রার্থীই গত শুক্রবার দুই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে প্রচার অভিযান চালিয়েছেন।
নেভাদা ও পেনসিলভানিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ‘ব্যাটেল গ্রাউন্ড’ হিসাবে বিবেচিত করা হয়। ভোট গণনায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতা হলে এসব রাজ্যের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। নেভাদায় প্রচার চালাবেন অভিবাসন-বিরোধী নীতি কারণে মুহূর্তে আলোচনা-সমালোচনার তুঙ্গে থাকা রিপলিকান পার্টির প্রার্থী ডোনাল ট্রাম্প।
হাইতির অভিবাসীদের ঘিরে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব উসকে দেয়া নিয়ে ইতিমধ্যে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প বলেছেন, ওহাইও থেকে তিনি ব্যাপক হারে অভিবাসী বিদায় করবেন। তিনি দাবি করেন, সীমান্ত পেরিয়ে যেসব মানুষ ওহাইও অঙ্গরাজ্যের স্প্রিংফিল্ড শহরে এসেছেন, তাঁরা বিড়াল ধরে খাচ্ছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি সত্য নয়।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিতর্কের উদ্দীপনায় চাঙা কমলা হ্যারিস দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য পেনসিলভানিয়ায় মধ্যপন্থী ভোটারদের লক্ষ্য করে প্রচার চালিয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন পাওয়ার পর ফিলাডেলফিয়ায় প্রথমবারের মতো ডব্লিউপিভিআই টিভিকে সাক্ষাৎকার দেন কমলা।

কমলা বলেন, আমরা কারও বন্দুক নিয়ে নিচ্ছি না। আমি সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী ও যুক্তিসংগত বন্দুক সুরক্ষা আইন সমর্থন করি। কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বন্দুকের অধিকার একটি বিতর্কিত বিষয়। ইতিমধ্যে ট্রাম্প তাঁর প্রচারে বলেছেন, কমলা হ্যারিস বন্দুক বাজেয়াপ্ত করতে চান।
৭৮ বছরের ট্রাম্প নেভাদার প্রচারে মূল্যস্ফীতিসহ মার্কিন অর্থনীতির ওপর জোর দিয়েছেন। নির্বাচনের আগে সুখবরও পেয়েছেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে করা দুটি ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে দেশটির জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। তবে তিনি বাকি আট অভিযোগে মামলা এগিয়ে নেয়ার অনুমতি দিয়েছেন।
নির্বাচনের দিন পর্যন্ত মাত্র সাত সপ্তাহ বাকি। এখন পর্যন্ত জরিপগুলোতে ট্রাম্পকে ছাড়িয়ে গেছেন কমলা। এমনকি দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোতেও সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন কমলা। তার সে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে প্রচারণায়। গত শুক্রবার পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন কমলা।
এ সময় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি নির্দিষ্ট ফেডারেল চাকরিতে কলেজ ডিগ্রির বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন। সমর্থকদের উদ্দেশে কমলা বলেন, ডিগ্রি দিয়ে মানুষের দক্ষতা মাপা যায় না। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলে সরকারের চাকরিতে ডিগ্রির বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তুলে নেয়া হবে।

কমলা বলেন ডিগ্রি থাকা মানেই ওই ব্যক্তি দক্ষ, এমনটা নয়। নির্বাচনে জিতলে, বেসরকারি খাতগুলোকেও এ রকম পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানাবেন বলে উল্লেখ করেন কমলা হ্যারিস। প্রচারণাস্থলের অদূরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে মার্কিন সহায়তার কারণে বিক্ষোভ দেখান অনেকে।
নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে তিনিই হবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অশ্বেতাঙ্গ ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নারী প্রেসিডেন্ট। তবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এ বিষয়গুলোতে তেমন জোর দিচ্ছেন না কমলা হ্যারিস। বরং নিজের দক্ষতা-অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পিত নীতিমালা নিয়ে কথা বলছেন।
শনিবার ওয়াশিংটনে কৃষ্ণাঙ্গদের কংগ্রেশনাল ককাস ফাউন্ডেশনের নৈশভোজে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তিনি মধ্যবিত্তদের জন্য আরও শক্তিশালী অর্থনীতি তৈরিতে কাজ করবেন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করবেন এবং নারীরা যাতে শরীর নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, তা নিয়ে কাজ করবেন।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছে অবস্থিত নিজ মালিকানাধীন এক অবকাশ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, আমরা স্প্রিংফিল্ড শহর দিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি। শহরটিকে অভিবাসীরা ধ্বংস করে দিয়েছে। প্রায় সপ্তাহজুড়ে স্প্রিংফিল্ডে অভিবাসীরা পোষা প্রাণী ও শিশুদের হত্যা করছে বলে মিথ্যা দাবি করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় রিপাবলিকান প্রার্থী ট্রাম্প এমন মন্তব্য করলেন।
স্প্রিংফিল্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে, অভিবাসীরা পোষা প্রাণী খাচ্ছে এ মিথ্যা দাবি সম্প্রদায়টির মধ্যে প্রচুর ভয় সৃষ্টি করেছে। এরই মধ্যে স্কুল বন্ধ করতে হয়েছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট বাইডেন স্প্রিংফিল্ডে হাইতি অভিবাসীদের নিয়ে সমালোচনার বিষয়টিকে ‘স্রেফ ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে শান্ত থাকার আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি শহরটিতে (স্প্রিংফিল্ডে) যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন কিনা। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমি এটুকু বলতে পারি যে আমরা স্প্রিংফিল্ড থেকে বড় মাত্রায় (অভিবাসীদের) বিতাড়িত করব। আমরা এসব মানুষকে ভেনিজুয়েলায় ফেরত পাঠাব।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প কেন ভেনিজুয়েলার কথা উল্লেখ করেছেন তা স্পষ্ট নয়। যদিও তার বক্তৃতার মধ্যে তিনি কলোরাডোতে ভেনিজুয়েলা থেকে আগত অভিবাসীদের কথা উল্লেখ করেছেন। বলেছেন, যদি তিনি নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেতেন, তাহলে সেখানে অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, স্প্রিংফিল্ডের অভিবাসীদের বেশিরভাগই হাইতির নাগরিক। একটি ফেডারেল প্রোগ্রামের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনি অনুমতি রয়েছে তাদের।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন পোপ। দুষলেন, গর্ভপাতের অধিকারের সমর্থনে কমলা হ্যারিসের বিবৃতিকেও। পোপ ফ্রান্সিসের মতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুযুধান রিপাবলিকান এবং ডোমোক্র্যাট প্রার্থীর কেউই ‘মানবতাবাদী নন’।
খ্রিস্টধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার সর্বোচ্চ ধর্মগুরু ১২ দিনের এশিয়া সফর শেষে ভ্যাটিকানে ফেরার পথে তাঁর বিশেষ বিমানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে তিনি আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলার সমালোচনা করে বলেন, ওরা দু’জনেই জীবনের বিরোধী।
ট্রাম্প শিবিরে মুসলিমবিদ্বেষী এক নারীকে ঘিরে অস্বস্তি!