যেসব পুলিশ সদস্য এখনও কাজে যোগদান করেনি তাদের আর যোগদান করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বুধবার সকালে গাজীপুরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার একাডেমিতে আয়োজিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ায় জনগণ এর সুফল ভোগ করবেন মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছে। তাই তাদের একটা ক্ষমতার ভেতরে কাজ করতে হবে।
এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকার পতনের পর বাংলাদেশ আজ নবজাগরণে উজ্জীবিত। আনসার বাহিনীর কাছে তিনি দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজেদের সঁপে দিয়ে সততা, নিষ্ঠা ও ন্যায্যতার মাপকাঠিতে কাজ করার আশা করেন।
উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পরবর্তীতে দেশের প্রতিটি জরুরি মুহূর্তে আনসার বাহিনীর সদস্যরা গভীর দেশপ্রেম নিয়ে এগিয়ে এসেছে এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা বিধানসহ কূটনৈতিক এলাকার সুরক্ষায় এ বাহিনী বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়- বাংলাদেশ পুলিশের ১৮৭ জন সদস্য এখনও কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পট পরিবর্তনের পর এক আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে যোগাযোগ না করে অনুপস্থিত রয়েছেন।
অনুপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ডিআইজি এক জন, অতিরিক্ত ডিআইজি সাত জন, পুলিশ সুপার দুই জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এক জন, সহকারী পুলিশ সুপার পাঁচ জন, পুলিশ পরিদর্শক পাঁচ জন, এসআই ও সার্জেন্ট ১৪ জন, এএসআই ৯ জন, নায়েক সাত জন এবং কনস্টেবল ১৩৬ জন।
১৮৭ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ছুটিতে অতিবাস ৯৬ জন, কর্মস্থলে গরহাজির ৪৯ জন, স্বেচ্ছায় চাকরি ইস্তফা দিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত তিন জন এবং অন্য কারণে ৩৯ জন কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
'সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসির সুফল পাবে জনগণ' 