ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে তোফাজ্জল হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয় শিক্ষার্থী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া ও পিআর) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।
তিনি জানান, তোফাজ্জল হত্যা মামলাটি ডিএমপি অত্যন্ত গুরুত্ব ও নিবিড়ভাবে তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামি গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
জবানবন্দি শেষে তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তালেবুর।
এর আগে ওই ছয় শিক্ষার্থীকে ঢাকার সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয়। তারা হলেন- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জালাল মিয়া, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. মোত্তাকিন সাকিন এবং আল হুসাইন সাজ্জাদ, আহসানউল্লাহ ও ওয়াজিবুল আলম। তারা সবাই এফএইচ হলের আবাসিক ছাত্র।
তাদের মধ্যে জালাল মিয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপসম্পাদক। কোটা সংস্কার আন্দোলনের চলাকালে তিনি ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগে করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। অপর পাঁচজনের রাজনৈতিক পরিচয় জানা যায়নি।
তোফাজ্জল নামের ওই যুবক ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আটটার দিকে বঙ্গবাজার এলাকার পাশে এফএইচ হলের ফটক দিয়ে মাঠের ভেতরে যান। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী চোর সন্দেহে তাকে আটক করে হলের অতিথি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে হলের ক্যানটিনে নিয়ে রাতের খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর আবার তাকে হলের অতিথি কক্ষে এনে ব্যাপকভাবে মারধর করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে স্যেশ্যালে। ওই ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এ সময় ওই যুবককে স্ট্যাম্প দিয়ে মারধর করা হয়েছিল।
পরে গভীর রাত ১২টার দিকে হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষক তোফাজ্জলকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরের দিন যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার পরপরই এফএইচ হল থেকে পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
তোফাজ্জলের বাবা আবদুর রহমান মারা গেছেন ২০১১ সালে, মা বিউটি বেগম মারা যান ২০১৩ সালে এবং ভাই পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাসির উদ্দিন মারা যান ২০২৩ সালে। পরিবারের কেউ না থাকায় কখন, কোথায় থাকেন তা কেউ খোঁজও রাখতেন না।
তোফাজ্জল ২০০৯ সালে চরদুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ২০১১ সালে সৈয়দ ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পিরোজপুর সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে বাংলা বিভাগে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেন।
বড় ভাই মারা যাওয়ার পর তাকে দেখাশোনা করার মতো কেউ ছিল না। স্বজনরা জানান, কয়েক বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন তোফাজ্জল।
বাবা-মার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফাজ্জল