শারদীয় দুর্গাপূজায় রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে বন্ধ ঘোষণা হওয়া কুমারী পূজা আবারও অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এবারও শ্রীশ্রী কুমারী মায়ের পূজা হবে। শনিবার দুপুরে ঢাকার সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত এক অক্টোবর চলতি বছর দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এবার কুমারী পূজা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন কর্তৃপক্ষ।
ওই দিন ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের স্বামী শান্তিকরানন্দ মহারাজ (কিশোর মহারাজ) সাংবাদিকদের জানান, এর আগে করোনা মহামারীর সময়ও কুমারী পূজা বাদ পড়েছিল। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবারও কুমারী পূজা বাদ দেওয়া হয়েছে।
কুমারী পূজা রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রবর্তিত একটি প্রথা। কুমারী মেয়েদের মধ্যে তিনি দেবীর উপস্থিতি দেখতেন। এ কারণে ছোট মেয়েদের তিনি অষ্টমীর দিন পূজার ব্যবস্থা করেন। ১৬ বছর বয়সের কুমারী মেয়েকে দেবীরূপে পূজা করা হয়।
বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে এই সব কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়। তা হলো-
- এক বছরের কন্যা — সন্ধ্যা।
- দুই বছরের কন্যা — সরস্বতী।
- তিন বছরের কন্যা — ত্রিধামূর্তি।
- চার বছরের কন্যা — কালিকা।
- পাঁচ বছরের কন্যা — সুভগা।
- ছয় বছরের কন্যা — উমা।
- সাত বছরের কন্যা — মালিনী।
- আট বছরের কন্যা — কুষ্ঠিকা।
- নয় বছরের কন্যা — কালসন্দর্ভা।
- দশ বছরের কন্যা — অপরাজিতা।
- এগারো বছরের কন্যা — রুদ্রাণী।
- বারো বছরের কন্যা — ভৈরবী।
- তেরো বছরের কন্যা — মহালক্ষ্মী।
- চৌদ্দ বছরের কন্যা — পীঠনাযি়কা।
- পনেরো বছরের কন্যা — ক্ষেত্রজ্ঞা।
- ষোলো বছরের কন্যা — অন্নদা বা অম্বিকা।
নির্ভয়ে পূজা মণ্ডপে যেতে বললেন সেনাপ্রধান