সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব নিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এমন অভিযোগ করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেছেন, কোনো ষড়যন্ত্রকারীই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশ্রয় পাবে না।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
মাহফুজ আলম বলেন, যারা দেশের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিকে বিশৃঙ্খল করে তোলা এবং সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাদের জেনে রাখা দরকার সরকার খুব নিবিড়ভাবে দেশের সব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে আছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের আয়োজন হচ্ছে। নিয়মিত বোঝা-পড়া হচ্ছে। সরকার তাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ওপেন আছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ এই সহকারী বলেন, দেশ-বিদেশ থেকে কোনো রকমের ষড়যন্ত্রকারী স্পেস (সুযোগ) পাবে না, এটা আমাদের প্রতিজ্ঞা। এই প্রতিজ্ঞায় আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করছি। আশা করি এবারের পূজা গত ১৫ বছরের গ্লানিমুক্তভাবে উদযাপিত হবে।
মাহফুজ আলম বলেন, দুষ্কৃতকারীদের কোনো রকম প্রশ্রয় দেয়া হবে না। সব অনুষ্ঠান নিরাপদ ও আনন্দময় করে তুলতে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে গোয়েন্দা, পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা থাকবে। সবাই থাকবে। সবাই আমরা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে আছি।
তিনি বলেন, গত দুই মাসে হিন্দু সম্প্রদায় যেসব দাবি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছে, আমরা সেগুলো পর্যবেক্ষণ করছি। কী ধরনের পদক্ষেপ নিলে তাদের দাবিগুলোর সঙ্গে কাজ করে যেতে পারি আমরা সে চেষ্টা করেছি। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন জায়গায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হিন্দুসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হয়েছে। ওই সময় সরকার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও জনতা এসব হামলা-সংঘাত রুখে দিতে চেষ্টা করেছে। এরপরও অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে আমরা তাদের সাহায্য-সহযোগিতার চেষ্টা করবো। আমরা হয়তো আজ-কালের মধ্যে সেটি করবো। যাতে তারা নিরাপদে ও আনন্দে পূজা উদযাপন করতে পারেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম আরও বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে দেশ ও সরকারকে যারা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন তারা জেনে রাখবেন সরকার নিবিড়ভাবে দেশের সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে আছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ সব সংখ্যালঘুদের পাশে আছে। সবার সঙ্গে সংলাপ ও বোঝাপড়া হচ্ছে। তাদের সবার দাবি মেনে নেওয়ার আলোচনা হচ্ছে। রাজপথের আন্দোলন ভিন্ন বিষয় হতেই পারে। তবে এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের থেকে যারা আন্দোলন করেছেন তাদেরকে অনুরোধ করবো, সরকার ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দুর্গাপূজা শেষ হলেই ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য আমরা কাজ করবো।
তিনি বলেন, পাশাপাশি যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার হয়েছেন তাদের মামলার জন্য সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। আপনারা জানেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্তমান অবস্থা। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
একইভাবে বৌদ্ধ সম্প্রদায় অনুভব করছে তারা নিপীড়িত হয়েছেন। তারা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। নিবিড়ভাবে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। তারাও যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দের সঙ্গে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করতে পারেন। তারা যে উৎসব বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন, আমরা চাইবো বাংলাদেশে যেন কোনো উৎসব বন্ধ না হয়। প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের নিজেদের আনন্দ উৎসব পালনের অধিকার আছে। তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমরা এমন করে ব্যবস্থা নেবো তারা যেন কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান পালন করেন।
বিচারে ভোগান্তি ও দ্রুত মামলা নিষ্পত্তিতে প্রাধান্য কমিশনের