গত কয়েক মাস ধরেই বাজারে আলোচিত নিত্যপণ্যের নাম ডিম। মানুষের পুষ্টির অন্যতম উৎস ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। অভিযানেও ডিমের দাম তেমন একটা কমেনি, বরং কিছু কিছু পাইকারি বাজারে ডিম বিক্রি বন্ধ অথবা কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এই পরিস্থিতিতে আবারও বেঁধে দেয়া হলো ডিমের দাম। উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে মুরগির ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণের পর এই দামে বিক্রি করতে একমত হয়েছে বড় উৎপাদক ও আড়তদাররা।
সেই হিসেব এক হালি ডিমের দাম কোন মতেই ৪৮ টাকার বেশি হবে না। মঙ্গলবার দুপুরে ডিম উৎপাদক ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ভোক্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার থেকে উৎপাদক পর্যায়ে ১০ টাকা ৯১ পয়সা, পাইকারিতে ১১ টাকা ১ পয়সা। খুচরায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সায় ডিম বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত একটি ডিম পৌঁছতে বদল হয় অন্তত পাঁচটি হাত। প্রতি হাতেই বাড়তে থাকে ডিমের দাম। আর দাম নির্ধারণে নানা পক্ষের কারসাজি আছেই। ফলে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ছাড়াই বিকল্প ছিলো না। যাতে যোগ দেন বড় করপোরেট খামারি থেকে শুরু করে বড় আড়তদাররা।
বৈঠক শেষে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের নবনিযুক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান জানান, ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে মধ্যসত্ত্বভোগীদের দাপট কমিয়ে উৎপাদক থেকে পাইকার আর পাইকার থেকে খুচরা পর্যন্ত আর কোন পক্ষ যাতে ঢুকতে না পারে সেটি কঠোর ভাবে নজরদারি করা হবে।
বৈঠকে প্রতিটি ডিমের দাম খামার পর্যায়ে পর্যায় ১০ টাকা ৫৮ পয়সা, আড়ৎ পর্যায় ১১টাকা ১ পয়সা আর খুচরা পর্যায় ১১ টাকা ৮৭ পয়সা নির্ধারণ করেছে প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর। এই দামে ডিম বিক্রিতে একমত হয়েছে সবপক্ষ। বাজারে এই দাম মানা হচ্ছে কিনা তা কঠোর নজরদারি করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সরকারি দামে ডিম কিনতে না পারা, রসিদ না দেওয়া ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানার কারণে ডিম বিক্রি বন্ধ রেখেছেন রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু আড়তদার। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজধানীর তেঁজগাও ডিমের আড়তেও কাঙ্ক্ষিত বেচা-কেনা হয়নি।
১২ দিনে প্রবাসী আয় ১১ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে হার্ডলাইনে যাবে সরকার: আসিফ মাহমুদ