ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষায় হতভম্ব ইসরাইল!

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:৫১ পিএম

গাজায় দখলদার ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হবার পর থেকেই ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা চলছে। ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যা, লেবাননে আগ্রাসন, হিজবুল্লাহ, হুথিসহ ইসলামি প্রতিরোধ দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের হত্যার মতো বিষয়ে চূড়ান্ত রূপ নেয় এই উত্তেজনা।

বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে এই চলতি মাসের প্রথম দিনে ইসরাইলে প্রায় দুইশো মিসাইলের হামলা চালায় ইরান। আয়রন ডোম, অ্যারো, ডেভিডস স্লিংয়ের মতো অত্যাধুনিক সব আকাশ প্রতিরক্ষাকে বোকা বানিয়ে ইরানের ৯০ শতাংশ মিসাইল ইসরাইলে আঁছড়ে পরে। এই হামলার পর থেকেই ইসরাইলের জবাব নিয়ে তৈরি হয় আকাশ কুসুম সব জল্পনা কল্পনা।

ইসরাইলসহ পশ্চিমারা দাবি করে, ভঙ্গুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় তেল আবিবের সম্ভাব্য হামলায় ইরান ধুলোয় মিশে যাবে। নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তেহরান মনগড়া তথ্য দিলেও, বাস্তবে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নাকি সাবেকি আমলের যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি বলে খোটা দিতো পশ্চিমারা। দাবি করা হতো, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্র ঠেকানোর আগেই ভেঙে পড়বে পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

তবে আয়তুল্লাহ খামেনির দেশটিকে নিয়ে ইসরাইল ও পশ্চিমাদের হিসেব যে ভুল ছিলো তা প্রমাণ হয়ে গেছে শনিবারের হামলায়। তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের অহংকার এফ থার্টি ফাইভসহ অত্যাধুনিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালায় তেল আবিব।

ইরানকে উচিত শিক্ষা দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া আরব দেশগুলোকে যেন নিজেদের সামর্থ্যের বার্তাই দিতে চেয়েছিলো ইসরাইল। তবে ইরানের সীমা ভেদ করার সাথে সাথেই আকাশে ধ্বংস হতে থাকে ইসরাইলের একের পর এক মিসাইল ও ড্রোন। দ্রুত এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক ও যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। 
ইরানের তেহরান, খোজেস্তান ও ইলামে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন তৈরির কারখানাসহ ২০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইসরাইল। তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি ও বিস্ফোরণের কারণ না হতে পারায় মুখরক্ষায় পুরনো কিছু আগুনের ছবি নতুন করে ব্যবহার করছে ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো।

হামলা নিয়ে মুখ খুলছে না ইসরাইলি প্রশাসনও। তবে গণমাধ্যমগুলো বলছে, ইরানের অকল্পনীয় প্রতিরক্ষায় স্তব্ধ হয়ে গেছেন নেতানিয়াহু। নিজেদের সর্বাধুনিক অস্ত্র দিয়েও ইরানের ক্ষতি করতে না পারায় বিস্ময়, লজ্জা  ও ভয় ঘিরে ধরেছে এই নেতাকে। আর ইসরাইলের হামলার চেয়ে পশ্চিমাদের আলোচনায় উঠে এসেছে ইরানের বিস্ময়কর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

পশ্চিমাদের আড়ালেই নিজেদের সামরিক বাহিনীতে একের পর এক শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যোগ করেছে ইরান। শত্রুদের কাছে দেশটি তৈরি হয়েছে দুর্ভেদ্য দুর্গে। গেল ফেব্রুয়ারিতেই ইনফ্রারেড শনাক্তকরণ সিস্টেমসহ আজারাকশ বা থান্ডারবোল্ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করে দেশটি। এছাড়াও রাশিয়ার তৈরি দূর পাল্লার এস টু হানড্রেড ও এস থ্রি হানড্রেড মিসাইল ব্যবস্থা রয়েছে ইরানের সুরক্ষায়।

নিজেদের তৈরি বাবর থ্রি সেভেন থ্রির রয়েছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ধ্বংসের অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের এম আই এম টুয়েন্টি থ্রি হক, এইচ কিউ টু জে, খোরদাদ ফিফটিন দিয়ে দেশকে ঘিরে রেখেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী।

শত্রুপক্ষ যেন সীমানা অতিক্রম করতে না পারে সেজন্য চীন থেকে আমদানি করা ২৬০টির বেশি অ্যান্টি মিসাইল সিস্টেম রয়েছে পাহারায়। এছাড়াও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় নতুন করে এডি ওয়ান হানড্রেড টুয়েন্টি নামের এক নতুন প্রতিরক্ষা যুক্ত হয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা ভান্ডারে। অত্যাধুনিক, স্পর্শকাতর আকাশ যান শনাক্ত ও ধ্বংসে নির্ভুলভাবে কাজ করে।

তবে ইসরাইলের শনিবারের হামলা ঠেকাতে এতো প্রতিরক্ষা ব্যবহারই করতে হয়নি ইরানকে। এস টু ও থ্রি হানড্রেডসহ বাবরকে সক্রিয় করার মাধ্যমেই ইসরাইলি মিসাইল আকাশেই ধ্বংস করে দেয় দেশটি।

এবার পালা ইরানের। ইসরাইলের হামলার জবাবে নির্বিচার আক্রমণ হবে বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলো ইরান। এমনকি থাডের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করার মতো অস্ত্রও তাদের হাতে আছে বলে জানায় রেভ্যুলিউশনারি গার্ড বাহিনী।

ইসরাইলের আগ্রাসন ঠেকিয়ে নিজেদের অকল্পনীয় সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশ। আর এবার হয়তো ইসরাইলকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে সেই হুমকিই কাজে পরিণত করবে ইরান- হামলার একদিন পর এমন ভয়ই পাচ্ছে ইসরাইল ও পশ্চিমারা।

 

এআরএস
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ থামেনি। সবশেষ দখলদারদের ড্রোন হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত সাত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ আগ্রাসনের পর থেকে ইসরাইলে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেট।
ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা, লেবাননে ভঙ্গুর পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকির মধ্যেই এক টেবিলে বসে ‘ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একটি চূড়ান্ত শান্তি...
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি নিয়ে যখন ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যের ‘কসাই’ খ্যাত বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানালেন দখলদারদের সাবেক যুদ্ধমন্ত্রী...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ফ্যাসিবাদ বিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে শরিক নেতাদের উদ্দেশ্য বলেছেন, আমরা অতীতে একসাথে ছিলাম, আছি এবং একসাথেই থাকবো।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি সরকার। যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের এমনটিই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্পেনের মহাকাব্যিক জয় শুধু একটি ঐতিহাসিক ট্রফি অর্জন আর রূপকথার গল্প নয়, এটি ছিল ফুটবলের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজংশে ব্যাটন হস্তান্তরের স্মারক। ফুটবল...
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ইনজুরি টাইমে ফেরান তোরেসের অবিশ্বাস্য গোল স্প্যানিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস লিখেছে। ২০১০ সালে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশকে...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর