শেরপুর কলেজছাত্র সুমন হত্যাকাণ্ডটি ইতিমধ্যে আলোচিত হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে। সময় যতোই গড়াচ্ছে, একটু একটু করে বের হচ্ছে হত্যার রহস্য। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত তরুণী, তার বাবা এবং ওই তরুণীর দ্বিতীয় প্রেমিককে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বলছে, নিহতের গোপনাঙ্গসহ শরীরে একাধিক আঘাতে চিহ্ন পাওয়া গেছে। মটকানো ছিলো ঘাড়ও।
ইতিমধ্যে হত্যার দায় স্বীকারও করেছেন ওই তরুণীর আরেক প্রেমিক। তবে মুখ পুরোটা এখনও খোলোনি পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্তের স্বার্থে অনেক কিছু তারা এখনও চেপে যাচ্ছে।
এদিকে সুমনের বাড়িতে এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে তাতে ওই শোক নিতে পারছেন না পড়শিরাও। সুমনের মা বলেন, রাজমিস্ত্রির কাজ করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়েছেন বাবা। ছেলের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন শেষ হলো অহেতুকভাবে। মঙ্গলবার বিকেলে তার দাফন হয়েছে।
সুমনের মা কল্পনা বেগম বলেন, এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সময় ওই মেয়ের সঙ্গে সুমনের পরিচয় হয়। এরপর দুই জনে একই কলেজে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মেয়েটি সুমনকে বিয়ে করতে চাইছিল। কিন্তু আমি না করছিলাম। মেয়েটি আমার কথা শোনে নাই। সে আমার ছেলেকে বিয়ের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। কিন্তু ছেলে আর বাড়ি ফেরেনি। হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি করেছেন সুমনের বাবা।
এর আগে, অপহরণের সাত দিন পর সোমবার দিবাগত গভীর রাতে শেরপুর শহরের সজবরখিলা এলাকার একটি বাড়ির উঠান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ওই তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সে কসবা বারাকপাড়া (নিমতলা) এলাকার রাজমিস্ত্রি নজরুল ইসলামের ছেলে। শেরপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমন নিখোঁজ ছিল চার নভেম্বর থেকে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সুমনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে থেকেও অপর বন্ধুর সঙ্গে প্রেমে মজেন ওই তরুণী। তাই চার নভেম্বর সুমনকে সরিয়ে দিতে বিয়ের কথা বলে নতুন প্রেমিকের বাড়িতে ডেকে নেন ওই তরুণী। এরপর তাকে হত্যা করে রবিনের বাড়ির উঠানে লাউয়ের মাচার নিচে মাটিতে পুঁতে রাখে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে সুমনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক হুমায়ূন আহমেদ নূর জানান, মরদেহের মাথা, গলা, বুকে ও গোপনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তার ঘাড়ও মটকানো ছিল। আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, সুমন হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার তার সহপাঠী রবিন মিয়া (১৯) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল মাহমুদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাকে জামালপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জুবায়দুল আলম বলেন, প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে সুমনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে।
বকেয়া বেতনের দাবিতে গাজীপুরে আবারও শ্রমিক অবরোধ