সারাদেশে গণটিকা কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও টিকার মজুদ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এরইমধ্যে মডার্না টিকার প্রথম ডোজ বন্ধের ঘোষণা এসেছে।
মডার্নার দ্বিতীয় ডোজ মজুদ রাখার পর সোমবার পর্যন্ত প্রয়োগ করার মতো টিকা আছে ২৪ লাখেরও কম যা ফুরাতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ পাঁচদিন।
যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সপ্তাহখানেকের মধ্যে বড় চালান আসলে গণটিকায় কোনো সমস্যা হবে না। তবে, ১২ আগস্টের পর আর দেওয়া হবে না মডার্নার টিকা।
করোনার সংক্রমণ যখন আর কোনভাবেই সামাল দেওয়া যাচ্ছিলো না, তখন টিকা কর্মসূচির ধীরগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার।
টিকা প্রাপ্তি কিছুটা নিশ্চিত হবার পর, আবারও জোড়োসোরে শুরু হয় টিকা কার্যক্রম। তবে গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছুতে এবার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে টিকা কার্যক্রম চলছে।
এতে ব্যাপক সারা মিলেছে এই কার্যক্রমে। প্রথম তিনদিনেই ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন। শহরে এখনো কার্যক্রম চললেও, জেলা পর্যায়ে রাশ টানা হয়েছে।

কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা মজুদ আছে কি? ৯ আগস্ট পর্যন্ত কেনা আর উপহার মিলিয়ে বাংলাদেশে টিকা এসেছে দুই কোটি ৫৬ লাখ ডোজ।
এরইমধ্যে প্রয়োগ করা হয়েছে এক কোটি ৯১ লাখ ৮৩ হাজারেরও বেশি ডোজ। এখন মজুদ আছে ৬৪ লাখ ৫৯ হাজার ডোজ টিকা।
যার মধ্য থেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডার্না আর ফাইজারের দ্বিতীয় ডোজের জন্য হাতে রাখতে হবে ৪০ লাখ ৬০ হাজার ডোজ। ফলে এখন প্রয়োগের মত টিকা আছে প্রায় ২৪ লাখ ডোজ।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে বাড়ছে কর্মহীন শ্রমিকের সংখ্যা
গণটিকা কার্যক্রমের এমন গতি অব্যাহত থাকলে চার থেকে পাঁচ দিনেই এই টিকা ফুরিয়ে যাবে। তবে চলতি মাসেই কোভ্যাক্সের এবং সিনোফার্মের কেনা টিকা পাওয়া যাবে। তাই ওয়ার্ডের এই কার্যক্রম দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া পর্যন্ত অব্যহত রাখতে চায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
কোভিড প্রতিরোধে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য কাজী তারিকুল ইসলাম বলেন, ভারতের ভয়াবহ করোনার সংক্রমণ সামাল দেওয়া গেছে ব্যাপক হারে টিকা প্রদানের মাধ্যমেই।
তবে টিকা নিলেও যে সহসাই মাস্ক থেকে মুক্তি মিলছে না, সেই কথাও বারবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন এই বিশেষজ্ঞ।
একাত্তর/আরবিএস
