আর কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরই আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্টের গদিতে বসতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায়) শপথ গ্রহণ করতে চলেছেন ট্রাম্প। আর শপথ গ্রহণ নিয়েই তিনি প্রথম কোন কাজ করবেন, তা জানিয়ে দিয়েছেন আগেভাগেই।
এবার দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে এসে, প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশে একাধিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন তিনি। অবশ্য ট্রাম্পের এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে মার্কিন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বিজয় র্যালি থেকে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমেই তিনি দেশে অনুপ্রবেশ বন্ধ করবেন। তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ করব। আমাদের সম্পদ ফেরাব। আমাদের পায়ের নীচেই যে তরল সোনা রয়েছে, তা উত্তোলন করব।
ট্রাম্প অভিবাসন নীতিকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম দিনের প্রধান অ্যাজেন্ডা ঘোষণা করেছেন। নিউইয়র্কে এক সমাবেশে তিনি বলেছিলেন, প্রথম দিনেই আমি মার্কিন ইতিহাসের বৃহত্তম গণপ্রত্যাবাসন কর্মসূচি শুরু করবো। এর মাধ্যমে অপরাধীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।
নির্বাচনী প্রচারে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন ভূমিতে জন্ম নেয়, তিনি দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখেন। ট্রাম্প এই আইন পরিবর্তন করার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, প্রথমদিনেই এই অধিকার বাতিল করব।
ট্রাম্পের আরও একটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি হলো, ৬ জানুয়ারি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলায় অভিযুক্তদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা। তিনি বলেছেন, আমি প্রথম দিনেই বিষয়টি বিবেচনা করব। ট্রাম্প বলেছেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ৯ মিনিটের মধ্যেই আমি এ বিষয়ে কাজ শুরু করব।
ট্রাম্পের সবচেয়ে সাহসী প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা। তিনি এক নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই তিনি এই যুদ্ধ শেষ করবেন। এই যুদ্ধের দ্রুত সমাধান করা হবে। আমি জানি, জেলেনস্কি ও পুতিন কীভাবে কাজ করেন। দুজনের সঙ্গেই আমার ভালো সম্পর্ক।
ট্রাম্প বলেছেন, মেক্সিকো ও কানাডার সব ধরনের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। গত বছরের ২৫ নভেম্বর ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ২০ জানুয়ারি, প্রথম দিনের নির্বাহী আদেশগুলোর একটি হবে মেক্সিকো এবং কানাডার সব পণ্যে শুল্ক আরোপ করা। এটি আমার প্রথম দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। ফক্স নিউজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আমেরিকায় আরও বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করব। এতে জ্বালানি খরচ কমবে। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ জলবায়ু পরিবর্তনের সংকটকে তীব্র করবে।
ট্রাম্প ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অধিকার সীমিত করতে চান। লৈঙ্গিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ট্রান্সজেন্ডারদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার উদ্দেশ্যে বাইডেন সরকারের উদ্যোগ ‘জেন্ডার-অ্যাফার্মিং কেয়ার’ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এসব ছাড়াও, ট্রাম্প আমেরিকার গাড়িশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ট্রাম্প
ট্রাম্পের প্রথম দিনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে এশিয়া