সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা, চিকিৎসা ব্যয় কমানো, রেফারেল সিস্টেম চালু, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের যৌক্তিক দাম নির্ধারণসহ স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা সুপারিশ দিতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন।
জনমুখী, সহজলভ্য ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার প্রধান ধাপ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন। দারিদ্র সীমার নিচে বাস করা ২০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার সুপারিশও থাকছে কমিশনের প্রতিবেদনে।
গেলো ১৮ ফেব্রুয়ারি পাঁচটি সংস্কার কমিশনকে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবার জন্য ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে সরকার। এই দিনক্ষণ মাথায় রেখেই কাজ করছে কমিশনগুলো। এর অন্যতম স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সবশেষ তথ্য বলছে, বাংলাদেশিরা তাদের স্বাস্থ্য সেবার ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয় নিজেরাই বহন করেন। নিজের সর্বস্ব সঞ্চয় ও সম্পদ খরচ করেই মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা নিতে হয়। বিআইডিএস এর তথ্য বলছে, এই ব্যয় মেটাতে গিয়ে বছরে অন্তত ৬১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়েন।
তথ্যগুলো স্বীকার করে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রধান এবং জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান বলছেন বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় প্রতিবেশী সব দেশের চাতকে বেশি। তাই সবার জন্য চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জোর সুপারিশ করবে কমিশন।
এ কে আজাদ খান আরও বলেছেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের ব্যয় কমাতে নীতিমালা ও নজরদারির পাশাপাশি রোগীদের জন্য রেফারেল প্রথা ও প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতার সুপারিশ করবে কমিশন। দক্ষ ব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি কমানো ও অতি মুনাফার লোভ থেকে চিকিৎসাখাতকে মুক্ত করার সুপারিশও থাকবে।
সরকারের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ দিতে চায় স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন।
সেই সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের রায় স্থগিত